সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২৬

একগুচ্ছ কবিতা

 সাথী দাশ

১। যুদ্ধজয়ের উপভোগ

ভয় আর শঙ্কায় মনের ভেতরটা নিঃশব্দ স্তব্ধতা,
মনে হচ্ছে যেন নিঃস্তরঙ্গ পুকুর।
কচুরিপানার মতো ভাসতে ভাসতে চলে সারি ধরে;
সীমান্তের ওপারে গন্তব্য সবার।
কারো মুখে কথা নেই,শুধু শব্দ ওঠে পায়ে চলার।
এসব কথা কী করে ভুলে কামাল-মনোজ? তাছাড়া
সময় পরম্পরায় পার হয়ে গেছে সময়, চেহেরায় তো
বোঝা যায় বয়সটা কোথায় থেমে আছে!
সেদিনের অনেকেই কালের নিয়মে সখ্যতা করেছে
মৃত্যুর সাথে।যারা বেঁচে আছে কদাচিৎ
কখনো কোনদিন দেখা হলে কোথাও,মুখোমুখি বসে
যুদ্ধদিনের সেই স্মৃতির পালকগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখে।
দলবদ্ধ সঙ্গীদের হাতে ইয়োথ ক্যাম্পের প্রথম পত্তন।
নিয়ম-কানুন গুছানো শেষে সঙ্গবদ্ধ প্রস্থান
প্রশিক্ষণ শিবিরে।সম্পন্ন প্রস্তুতি,সবাই-ই মৃত্যুকে আর
জীবনটাকে এক সঙ্গে নিয়ে পা বাড়ালো যুদ্ধষাত্রায়।
মৃত্যু কয়েকবার কাছে এসেও জীবনটাকে ফিরিয়েই
দিয়ে-দিয়ে গেলো যুদ্ধজয়ের উপভোগে।

২। ঊর্ধশির মানুষেরা এখন ক্লান্ত-শ্রান্ত

ঊর্ধশির মানুষ ইদানিংকালে বিরল প্রজাতির মতো;
হয়তো বা আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আনাচে-কানাচে।
হয়তো বা কোথাও পারিতোষিকতার ছায়া-অন্ধকারে
লেপ্টে-চাপ্টে নিজের মধ্যে নিজেই যেন সময় কাটায়।
না-না ওরা কেউ কিন্তু দলদাস নয়,লক্ষ্যভ্রষ্ট অসহায়।
ওদেরও বিবেক আছে,বুদ্ধি আছে,আছে মন।আছে
শুদ্ধচিন্তক হিসেবে মনের গভীরতা।এখন কিছুই নেই।
কারো সাথে কারো ঐক্যতাও নেই।নাম জানলেও কেউই
পরিচয় সূত্রে পরিচইত নয়।ওরা চোখে দেখে কানে শোনে
ওটাই ওদের শ্রেণিস্বার্থগত সুবিধাবাদের প্রাকস্তর।
দেশ ও রাষ্ট্রের উৎসমূলে যাঁরা অংশীদারিজন,প্রকৃত
রাষ্ট্র ক্ষমতায়নে ঘটক-অনুঘটক,তারাই তো মানুষ।
ওরাইতো ঊর্ধশির;যারা এখন ক্লান্ত-শ্রান্ত অবহেলিত।

৩। যন্ত্রনার প্রপাত
(প্রয়াত কবি খালিদ আহসানকে)

হঠাৎ কিছু নয়,নিশ্চিত সময় বিধির বিধান মানিয়েই
মিতে হলো বৈ কি।আক্ষেপ থাকবেই মানুষের মধ্যে,আর কিছুকাল থাকতো যদি খেলার ছলে।নিজের ভেতর
তৈরি করা বসতবাড়ি,আলোরচ্ছ্বটায় রঙিন হতো।

সেদিন সন্ধ্যা নেমেছিলো সন্তর্পনে পায়ে পায়ে আর এক
অব্যক্ত যন্ত্রনার প্রপাত আছড়ে পরেছিলো স্ত্রী-কন্যার উপর।
দেখতে দেখতে হাসতে হাসতে চোখের সামনে
আলোরচ্ছ্বটা নিবে গেলো।ভাবতে গেলে হৃদয় জুড়ে
হাহাকারের ফানুস ওড়ে। চারিদিকের মানুষগুলোর
মনের কোণে জমে থাকা স্মৃতিগুলো উচ্ছলে ওঠে।

যদ্যপি ভালোবাসা ছিলো মানুষের সাথে,একাকিত্বে
নিজের সাথে,কন্যা-জায়ারা এক সুতায় বাঁধা।ছিলো
প্রকৃতি-প্রেমে মশগুল।হাতের টানে অবয়ব।
প্রচ্ছদে প্রচ্ছদে প্রাণ খুঁজেপায় সে সব হাতের রেখা।
নিজের কবিতায় প্রেম ও প্রকৃতি,মিলেমিশে হাওয়ায়
ভাসতে
ভাসতে নিগূঢ় বন্ধনে আলাদা মাত্রা এনে দেয়।
এখানেই তুমি স্বতন্র,সে নিয়েই প্রস্হান চিরচেনাপথে।

 

সম্পর্কিত খবর

১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হবে : মাননীয় সড়ক ও রেল মন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, আগামী ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।...

বেগম খালেদা জিয়া সহ প্রয়াত দেশি বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্মরণে সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা...

ইরানের একাধিক শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানিকে হত্যার দাবি নেতানিয়াহুর

ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের ১৪তম দিনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন। এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বিবৃতি দেন ইসরায়েলি হামলায় ইরানের একাধিক শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানী...

স্পিকার কোনো দলের নন, পুরো সংসদের অভিভাবক : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদের স্পিকার কোনো নির্দিষ্ট দলের নন; তিনি পুরো সংসদের অভিভাবক বলে অভিহিত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক...

চলতি বছরেই রুপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হতে যাচ্ছে

অবশেষে চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ১২...

ইরানে চরম হামলার হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইরানের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন “আজ এই পাগলাটে নোংরাদের কী হয়...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত