চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান আজ ভোরে শুরু হয়ে এখনো চলছে। আজ সোমবার ভোট ছয়টায় সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্যের অংশগ্রহণে এই অভিযান শুরু হয়।অভিযানের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উল্লেখ্য গত জানুয়ারি মাসে অভিযানে গিয়ে র্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসে জঙ্গল সলিমপুর। এরপর সেখানে সমন্বিত অভিযান চালানোর বিষয়টি সামনে আসে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় ওই সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি।
আজ ভোর হওয়ার আগে থেকেই জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে বসানো হয়েছে তল্লাশিচৌকি, যাতে অভিযান শুরুর পর কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অতীতে এলাকাটিতে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবারের অভিযানে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি। এর বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর জায়গায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ড উপজেলায় হলেও নগরের কাছেই এই এলাকা। এলাকাটির পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা। জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটির সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসী।
