পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ক্ষেত্র দিন দিন আরও ভয়ঙ্কর ও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইস্পাহান প্রদেশে একটি আমেরিকান এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার পর উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, একক অভিযানে আমেরিকা ১২টি সামরিক বিমান হারিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান, চারটি লিটল বার্ড হেলিকপ্টার, দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনসহ অন্যান্য যানবাহন।
ইরানি সূত্রগুলো এটিকে “আমেরিকার সামরিক বাহিনীর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ব্যার্থতা ” বলে উল্লেখ করেছে।ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ইরানের আকাশসীমায় আমেরিকান এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে ধ্বংস হয়। বিমানে দুজন ক্রু সদস্য ছিলেন। একজন পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়, কিন্তু অস্ত্র ব্যবস্থাপক কর্মকর্তা (অস্ত্র অপারেটর) পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করতে আমেরিকা বিশেষ বাহিনী, ডেল্টা ফোর্স ও সিল টিম-সিক্সসহ শত শত সৈন্য এবং ডজন ডজন বিমান-হেলিকপ্টার নিয়ে বিস্তৃত অভিযান শুরু করে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এই অভিযানকে “আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম সাহসী উদ্ধার অভিযান” বলে বর্ণনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত ওই কর্মকর্তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “আমরা তাঁকে পেয়েছি! তিনি আহত হয়েছেন কিন্তু ভালো আছেন।” কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ ক্ষতি। ইরানি সামরিক বাহিনী ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, উদ্ধার অভিযান চলাকালীন ইরানি সেনা, বিমান বাহিনী, বাসিজ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আমেরিকান বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়।
বিশেষ করে দক্ষিণ ইসফাহানের পরিত্যক্ত বিমানবন্দর এলাকায় আমেরিকানরা একটি ছলনামূলক অভিযান চালাতে গিয়ে ফেঁসে যায়। ইরানি সূত্র অনুসারে, দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান, দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং আরও কয়েকটি যানবাহন ইরানি আক্রমণে ধ্বংস হয়। আমেরিকান কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, দুটি এমসি-১৩০জে বিমান যান্ত্রিক ত্রুটি ও মরুভূমির নরম মাটিতে আটকে পড়ায় তা শত্রুর হাতে না পড়তে নিজেরাই ধ্বংস করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে ইরানি মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে পোড়া বিমানের ধ্বংসাবশেষ, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র – কলকাতা নিউজ ২৪.কম।
