বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬

মমতা মুসলিম সম্প্রদায়কে শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছেন : আসাদুদ্দিন ওয়েইসি

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বচনে ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপির ভূমিধ্বস বিজয়ের পর অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েইসি (Asaduddin Owaisi)পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাইরের রাজ্যে যে ‘লিবারেল ও সেক্যুলার’ ইমেজ তৈরি হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, মমতা মুসলিম সম্প্রদায়কে শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, নাগরিক হিসেবে কখনোই তাদের সঠিক মর্যাদা দেননি।

তাঁর আমলে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন ওয়েইসি। হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে ওয়েইসি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের বাইরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে লিবারেল ও সেক্যুলার ইমেজ তৈরি হয়েছে, তা ভুল। তিনি মুসলিমদের শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে শোষণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে তাদের দেখেননি। তাঁর প্রশাসনে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে। এসআইআরও একটা ফ্যাক্টর, কিন্তু যদি তৃণমূল মুসলিমদের নাগরিক হিসেবে দেখত এবং শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে নয়, তাহলে আরও অনেক বেশি উন্নয়ন হত।”

ওয়েইসির এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে। পর পর তিন মেয়াদের তৃণমূল শাসনকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতির জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। মাদ্রাসা শিক্ষা, ইফতার পার্টি, সংখ্যালঘু স্কলারশিপসহ নানা প্রকল্পের মাধ্যমে মুসলিম ভোট তিনি নিজের দিকে ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু ওয়েইসির অভিযোগ, এসবের আড়ালে সত্যিকারের উন্নয়ন হয়নি। মুসলিম যুবকদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কোনো বড় অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং তাদের ভোটের রাজনীতিতে ব্যবহার করেই ক্ষমতা ধরে রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওয়েইসির মন্তব্য তৃণমূলের জন্য অস্বস্তিকর। কারণ এতদিন মমতাকে সংখ্যালঘুদের ‘মসিহা’ হিসেবে দেখানো হতো। কিন্তু এবার নিজের সম্প্রদায়ের এক প্রভাবশালী নেতার কাছ থেকেই এই সমালোচনা আসায় চিত্রটা অন্যরকম হয়ে গেছে। ওয়েইসি আরও বলেছেন, দুর্নীতি যদি না থাকত এবং মুসলিমদের প্রকৃত নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হতো, তাহলে বাংলার মুসলিম সমাজ আজ আরও অনেক এগিয়ে থাকত।

স্থানীয় মুসলিম সমাজের একাংশের মধ্যে এই মন্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, সত্যি কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা দেখেছেন যে, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি আর ভোটের পর উন্নয়নের নামে শুধু প্রতারণা। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুরের মতো মুসলিম প্রধান এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অবস্থা এখনও খুবই খারাপ।

তথ্য সূত্র – কলকাতা নিউজ ২৪.কম

সম্পর্কিত খবর

‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচী ঘোষণা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা স্থগিতকরণসহ তিন দফা দাবি আদায় না হলে আগামীকাল বুধবার ১৫ জুলাই পরীক্ষা শেষে ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির ঘোষণা...

চট্টগ্রাম কর্ণফুলীতে সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার ছড়িয়ে যুবক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম কর্ণফুলী থানাধীন সাবেক স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ( ফেসবুকে) প্রকাশ এবং ভুয়া আইডি খুলে মানহানিকর তথ্য প্রচারের...

দেশের জনগণের উন্নত জীবনযাপন বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ও রাজনৈতিক দর্শন : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থন যতদিন বিএনপির সঙ্গে থাকবে, ততদিন কোনো...

বেলজিয়ামকে হারিয়ে স্পেন সেমিফাইনালে

স্পেন ২ : ১ বেলজিয়াম  বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর সেমিফাইনালে  অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে স্পেন। শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোর গোলে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে...

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি বাদ, নতুন ৬ দফা দাবি পেশ ছাত্রদের

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাহার করে নিয়েছে আন্দোলনরত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা। তবে ছয় দফা দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে...

নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও বন উজাড়ের ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বেশি বাড়ছে : ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম : স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দেয়ার মাধ্যমে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে। গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত