রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

মমতা মুসলিম সম্প্রদায়কে শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছেন : আসাদুদ্দিন ওয়েইসি

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বচনে ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপির ভূমিধ্বস বিজয়ের পর অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েইসি (Asaduddin Owaisi)পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাইরের রাজ্যে যে ‘লিবারেল ও সেক্যুলার’ ইমেজ তৈরি হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, মমতা মুসলিম সম্প্রদায়কে শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, নাগরিক হিসেবে কখনোই তাদের সঠিক মর্যাদা দেননি।

তাঁর আমলে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন ওয়েইসি। হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে ওয়েইসি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের বাইরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে লিবারেল ও সেক্যুলার ইমেজ তৈরি হয়েছে, তা ভুল। তিনি মুসলিমদের শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে শোষণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে তাদের দেখেননি। তাঁর প্রশাসনে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে। এসআইআরও একটা ফ্যাক্টর, কিন্তু যদি তৃণমূল মুসলিমদের নাগরিক হিসেবে দেখত এবং শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে নয়, তাহলে আরও অনেক বেশি উন্নয়ন হত।”

ওয়েইসির এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে। পর পর তিন মেয়াদের তৃণমূল শাসনকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতির জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। মাদ্রাসা শিক্ষা, ইফতার পার্টি, সংখ্যালঘু স্কলারশিপসহ নানা প্রকল্পের মাধ্যমে মুসলিম ভোট তিনি নিজের দিকে ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু ওয়েইসির অভিযোগ, এসবের আড়ালে সত্যিকারের উন্নয়ন হয়নি। মুসলিম যুবকদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কোনো বড় অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং তাদের ভোটের রাজনীতিতে ব্যবহার করেই ক্ষমতা ধরে রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওয়েইসির মন্তব্য তৃণমূলের জন্য অস্বস্তিকর। কারণ এতদিন মমতাকে সংখ্যালঘুদের ‘মসিহা’ হিসেবে দেখানো হতো। কিন্তু এবার নিজের সম্প্রদায়ের এক প্রভাবশালী নেতার কাছ থেকেই এই সমালোচনা আসায় চিত্রটা অন্যরকম হয়ে গেছে। ওয়েইসি আরও বলেছেন, দুর্নীতি যদি না থাকত এবং মুসলিমদের প্রকৃত নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হতো, তাহলে বাংলার মুসলিম সমাজ আজ আরও অনেক এগিয়ে থাকত।

স্থানীয় মুসলিম সমাজের একাংশের মধ্যে এই মন্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, সত্যি কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা দেখেছেন যে, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি আর ভোটের পর উন্নয়নের নামে শুধু প্রতারণা। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুরের মতো মুসলিম প্রধান এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অবস্থা এখনও খুবই খারাপ।

তথ্য সূত্র – কলকাতা নিউজ ২৪.কম

সম্পর্কিত খবর

মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক রইসুল হক বাহারের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল

মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক রইসুল হক বাহারের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। একাত্তরের এই গেরিলা যোদ্ধা ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। কৈবল্যধাম...

অপরাধ দমন ও মাদক উদ্ধারে বিশেষ অবদানে শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কৃত হলেন ফরিদা ইয়াসমিন

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন মীরসরাই থানার ফরিদা ইয়াসমিন। এর আগেও তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছিলেন। মঙ্গলবার (...

অন্যায় যতবার ফিরে আসার চেষ্টা করবে, জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ ততবার জেগে উঠবে: সাঈদ আল নোমান এমপি

দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত ও আওয়ামী সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থান জানিয়ে চট্টগ্রাম ১০ সংসদীয় আসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপি...

যে কোনো সময় এক দফার দাবি আসতে পারে : জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

ছবি : সংগৃহীত   জাতির প্রয়োজনে যে কোনো সময় এক দফার দাবি আসতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা...

আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে জ্বালানি সংকট হবে না : বিপিসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, বৈশ্বিক নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প সব উপায় কাজে লাগানোর...

চট্টগ্রামে বকেয়া পরিশোধের দাবিতে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ‘পথে পথে প্রতিবাদ’

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের পাঁচ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া পরিশোধের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি ‘পথে পথে প্রতিবাদ’। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত