নয়াদিল্লি: ভারতীয় প্রতিরক্ষা খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের দিকে এগুচ্ছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে। সূত্রের বার্ত অনুযায়ী ভিয়েতনামকে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল বিক্রির অনুমোদন দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ভারত সরকার। প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা ভারতীয় রুপি) এই চুক্তিপত্রে শুধু মিসাইল নয়, লঞ্চার, রাডার এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমও অন্তর্ভুক্ত থাকার প্রস্তাবনা রয়েছে।
অনুমোদন পেলে এটি হবে ফিলিপাইনের পর ভারতের দ্বিতীয় ব্রহ্মোস রফতানি চুক্তি। ২০২১ সালে ফিলিপাইনের সঙ্গে প্রথম ব্রহ্মোস রফতানি চুক্তি সম্পাদন করেছিল ভারত। সেই চুক্তির পর থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি হলে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপিত হবে। ব্রহ্মোস ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল।
এর গতি প্রায় ২.৮ ম্যাক (শব্দের গতির প্রায় তিনগুণ) এবং এটি স্থল, জল ও আকাশ তিন মাধ্যম থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়।ভিয়েতনাম দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের ব্রহ্মোস তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শুধুমাত্র শেষ অনুমোদনের অপেক্ষা।
চুক্তি সম্পন্ন হলে ভারত শুধু অস্ত্র বিক্রি করবে না, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তার প্রতিরক্ষা কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রহ্মোস রপ্তানি ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের বড় সাফল্য। এর ফলে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প আরও উৎসাহিত হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে। একজন সিনিয়র প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বলেন, “ব্রহ্মোস শুধু একটি মিসাইল নয়, এটি ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও কূটনৈতিক প্রভাবের প্রতীক। ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি হলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা যাবে।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারত সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্রহ্মোস বিক্রি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গেও সম্ভাব্য চুক্তির কথা শোনা যাচ্ছে। ফিলিপাইনের পর ভিয়েতনাম যদি ব্রহ্মোস গ্রহণ করে, তাহলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় অস্ত্রের চাহিদা আরও বাড়বে বলে ভারতীয় সমর বিশ্লেষকদের আশা।
