মুল্লুক চলো আন্দোলন ও দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত।
(পদ্মিনী সেনগুপ্ত রচিত ‘দেশ্রপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত’ শীর্ষক জীবনী গ্রন্থ থেকে করা অনুবাদ।)
– মিঠুন চৌধুরী
সিলেট ও আশেপাশের অঞ্চলের বেশিরভাগ চা বাগানের মালিকই ছিলেন ইউরোপিয়ানরা। এবং কুলিদের অধিকাংশই আসত অন্য প্রদেশ থেকে। চা বাগানগুলো কুলি নিয়োগের কাজ এজেন্টদের দিত এবং টাউটরা বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়াত। তারা অত্যন্ত দরিদ্রদের চিহ্নিত করে এবং টাকা দিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলত। চা বাগানের চাকরি এবং সুখী জীবনের প্রলোভন তাদের দেয়া হত। কাজ না থাকায় এবং অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় এরূপ সুযোগ সুবিধার চাকরির প্রস্তাব তারা সহজেই লুফে নিত।
নিয়োগের সময় তাদের যে কিছু টাকা দেয়া হত তা হিসেবের খাতায় ঋণ বাবদ উল্লেখ থাকত। যখনই তারা বাড়ি ফিরতে চাইত ঋণের সেই লম্বা হিসেব হাজির করা হত। তখন কুলিরা ছাড়া পেতে মিনতি করলেও কোনো কাজ হতো না। ঋণ পরিশোধে কুলিদের থাকতে বাধ্য করা হত এবং এভাবে তারা চা বাগানের দাসে পরিণত হত। এই পরিস্থিতি ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু কুলিরা এতটাই অসচেতন ছিল যে একটা শ্রমিক ইউনিয়নও তারা গঠন করতে পারেনি। এমনকি তাদের বেতনও ছিল অত্যন্ত কম। এরূপ পরিস্থিতিতে তারা পুরোপুরি হতাশ হয়ে পড়েছিল।
সারা ভারতবর্ষ তখন অসহযোগ আন্দোলনে উত্তাল। কংগ্রেসের কর্মীরা চা বাগানের শ্রমিকদের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জানতে পারে এবং দাসত্বের সেই অন্ধকার জগতে স্বাধীনতার বাণী প্রচারে নিযুক্ত হয়। নিপীড়িতরা তাদের মাঝে আশার আলো দেখতে পায় এবং তাদের হৃদয় মুক্তির আহ্বানে সাড়া দেয়। এতে হতাশ বাগান মালিকরা কংগ্রেম কর্মীদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু জেগে ওঠা কুলিদের আর দমিয়ে রাখা গেল না। ১৯২১ সালের মে মাসে চা বাগানের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ধর্মঘট হলো। যার প্রতিক্রিয়া হয়েছিল মারাত্মক। হাজার হাজার কুলি তাদের সম্বল গুছিয়ে নিয়ে নিজ গ্রামে ফেরার সিদ্ধান্ত নিল। দাসত্বের চেয়ে ভিক্ষাও শ্রেয় এমনটা ভেবে নিয়ে তারা ফিরে যেতে মনস্থির করেছিল। এজেন্টরা বললো, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য কুলিরা নিয়োগপ্রাপ্ত এবং এর আগে তারা ফিরতে পারে না। এমনকি কুলিদের মামলার ভয়ও দেখানো হলো। কিন্তু মুক্তির আকাক্সক্ষায় বাঁধ ভাঙা কুলিদের কিছুতেই থামানো গেল না।
মরিয়া হয়ে চাকরিদাতারা করিমগঞ্জ (আসামে অবস্থিত সিলেটের সীমান্তবর্তী) রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে স্টেশন মাস্টারকে বলল কুলিদের কাছে টিকেট বিক্রি করে তারা যেন কোনো রকম ‘সহযোগিতা’ না করে এবং ‘বেআইনী কর্মকা-’ উৎসাহিত না করে। ফলশ্রুতিতে কুলিরা টিকেট কিনতে পারলো না। বাধ্যহয়ে তারা হেঁটেই চাঁদপুর ঘাটের দিকে রওনা হলো। এই পরিস্থিতিতে করিমগঞ্জ কংগ্রেস চট্টগ্রামের যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত এবং কুমিল্লার অখিল চন্দ্র দত্তকে করিমগঞ্জ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে জরুরী টেলিগ্রাম পাঠালো। খবর পেয়ে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের ট্রাফিক ম্যানেজার ও এজেন্টদের টেলিগ্রাম পাঠিয়ে অতিসত্তর করিমগঞ্জ রওনা হলেন যতীন্দ্র মোহন।
পূর্ব ভারতের রেলওয়ে কোম্পানিগুলোর মধ্যে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের কর্মচারীরাই সবচেয়ে কম পারিশ্রামিক পেত। তাদের এই দরিদ্র অবস্থা বিবেচনায় নেয়া হতো না বলে আসামের তিনসুকিয়া থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চরম অসন্তোষ বিরাজ করছিল। অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতে এই নিদারুণ পরিস্থিতি যতীন্দ্র মোহনের নজরে এসেছিল এবং ভারতীয় শ্রমিকরা যতীন্দ্র মোহনকে সভাপতি করে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে ইউনিয়ন গঠন করেছিল। কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিযোগ এবং চাহিদা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিল।
আটকে পরা চা বাগানের কুলিদের মাঝে টিকেট বিক্রি করতে যতীন্দ্র মোহনের করা টেলিগ্রামের কারণে বিপুল সংখ্যক কুলি ট্রেনে চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছুতে পেরেছিল। তাদের মধ্যে একদল একটি স্টিমারে চড়ে গোয়ালন্দে আসে। গোয়ালন্দে পৌঁছে তারা দেখলো ঘাট চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। কুলিরা এজেন্টদের অনুরোধেও ফিরতে রাজি হলো না। ঘাটে থাকা এজেন্টরা পুলিশকে কুলি নিয়োগের চুক্তিপত্র দিয়েছিল। এরপরও কুলিরা ফিরতে রাজি হলো না। সেখানে ফরিদপুরের পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাজির ছিলেন। এরমধ্যে সিলেটের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনরোষ থামাতে সিআরপিসির ১৪৪ ধারায় নোটিশ জারি করলেন, যা জেলার চা বাগানগুলোর সাত মাইলের মধ্যে বলবৎ হবে।
বিপুল সংখ্যক কুলিকে জোর পূর্বক করিমগঞ্জ থেকে ট্রেনে চাঁদপুর পাঠানো হলো। নি:স্ব অবস্থায় যেখানে এসে তারা চরম অসহায়ত্বে পড়লেন। যদিও স্থানীয়রা একটা সময় পর্যন্ত তাদের দেখাশোনা করেছিল। কিন্তু এত বিপুল মানুষের খাবার ও দেখাশোনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ স্থানীয়ভাবে যখন সংগ্রহ করা গেল না তখন তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়াও এক সমস্যা হয়ে দেখা দিল। চাঁদপুরে প্রায় চার হাজার কুলি ছিল। ওই সময়ে আরো অনেকে গোয়ালন্দে পৌঁছে গিয়েছিল। আসামের চা বাগান এসোসিয়েশনের ইউরোপিয়ানদের একটি প্রতিনিধি দল চাঁদপুর পৌঁছালো এবং এসডিও’র সহযোগিতায় তারা কুলিদের কাজে ফিরতে প্ররোচিত করার চেষ্টা করল। কিন্তু কুলিরা সেসময় একটি গোয়ালন্দগামী স্টিমারে চড়ে চাঁদপুর ছাড়ার চেষ্টায় ছিল। অভিযোগ করা হয়, কর্তৃপক্ষ তখন গ্যাংওয়ে সরিয়ে নেয় ফলে অনেকেই নদীতে পড়ে যায়।
এরপর কুলিরা রেলওয়ে স্টেশনে চলে যায়। রেল শেডের নিচে তারা ঠাঁই নেয় যেখানে কংগ্রেসের স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের মাঝে ভাত ও পানি বিতরণ করে। হাজার হাজার কুলি তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে ঘুমালো। হঠাৎ গভীর রাতে সব বাতি নিভিয়ে দিয়ে গোর্খা সৈন্যরা অন্ধকারে শ্রমিকদের উপর ঝাপিয়ে পড়লো। সৈন্যদের মারধর ও লাথিতে শতাধিক কুলি আহত হলো।
অবশেষে কমিশনার এবং এসডিও গোর্খা সৈন্যদের ইউরোপিয়ান কমান্ডারদের এই বাড়াবাড়ি বন্ধের নির্দেশ দেয়। এবং রেলওয়ের একজন ইউরোপিয় কর্মকর্তা তদন্ত করেন কেন কুলিদের উপর এমন বর্বর হামলা চালানো হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়তে লাগলো। অমৃতসর ট্র্যাজেডির পর আর কোনো ঘটনায় বাংলা এতটা আলোড়িত হয়নি যতটা শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় হয়েছিল। প্রতিবাদে চাঁদপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য স্থানে হরতাল পালিত হলো। চাঁদপুরের নেতা হরদয়াল নাগের টেলিগ্রাম পেয়ে যতীন্দ্র মোহন সেখানে ছুটে গেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনায় শিকার কুলিদের জন্য খাবার ও ত্রাণ সামগ্রি যোগাড় করলেন।
এরমধ্যে এই সংবাদ তিনসুকিয়া থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। রেলওয়ের কর্মীরা অনুভব করলো কুলিদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তাদের ধর্মঘট করা উচিত। তাদের নিজেদের অভাব অভিযোগও ছিল। কুলিদের প্রতি এমন আচরণের খবর বারুদের স্তুপে স্ফুলিঙ্গ হয়ে জ্বলে উঠল। চাঁদপুর ট্র্যাজেডি ঘটেছিল ১৯২১ সালের ২০ মে রাতে। রেলওয়ের কর্মীরা ২৪ মে থেকে চাঁদপুর ও লাকসামে ধর্মঘট শুরু করলো। সেই ধর্মঘট ছিল স্বত:স্ফূর্ত এবং কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই শুরু হয়েছিল। আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের সদরদপ্তরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে ইউনিয়ন ২৫ মে বৈঠকে বসলো। নানা আলোচনা শেষে চট্টগ্রাম রেলওয়ে ইউনিয়ন তাদের সহমর্মিতা জানালো এবং আটকে পড়া কুলিদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিলো। স্টিমারেও ধর্মঘট শুরু হলো।
এমনকি চাঁদপুর, নারায়নগঞ্জ ও গোয়ালন্দের মধ্যে চলাচলকারী জাহাজের খালাসি ও সারেংরা জাহাজ বন্ধ করে দিল। সারেং এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মো. আবদুল মজিদ গ্রেপ্তার হলেন। যতীন্দ্র মোহন ছিলেন আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের সভাপতি। তিনি ঘোষণা করলেন এই ধর্মঘট স্টেশনে অসহায় কুলিদের ওপর মধ্যরাতে আক্রমণের কারণে এবং রেলওয়ের কর্মীদের অন্য রেলের তুলনায় কম মজুরির কারণে। এরমধ্যে কলেরার প্রকোপ দেখা দেয়ায় চাঁদপুরে কুলিদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছালো। তাদের বেশ কয়েকদিন সেখানে থাকতে হয়েছিল এবং অনেকে মারা গেল। স্থানীয় কংগ্রেস কমিটি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করলো। তারা সেখানে আক্রান্তদের চিকিৎসায় ডাক্তার ও ওষুধ পাঠালো। এতে মহামারীর প্রকোপ কিছুটা কমে এলো। পরে কুলিদের নৌকায় করে বাড়ি পাঠানো হলো।
আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে ধর্মঘট আহ্বানের সময় যতীন্দ্র মোহন ছিলেন পথিমধ্যে। কিন্তু চট্টগ্রামে থাকা অবস্থায় যদি তার সাথে যোগাযোগ করা হত তাহলে হয়ত তিনি ধর্মঘটে সম্মতিই দিতেন। যাই হোক, তিনি ধর্মঘটের দায়িত্ব নিলেন এবং তা সংগঠিত ও পরিচালনা করতে শুরু করলেন। ভারতবর্ষে এই প্রথম শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিযোগ জানাতে সরাসরি কোনো ধর্মঘটের আহ্বান করা হয়েছিল। ধর্মঘটকে সফল করতে যতীন্দ্র মোহন সম্ভাব্য সবকিছু করেছিলেন। ২৭ মে যখন স্টিমার সার্ভিসের কর্মীরাও ধর্মঘটে যোগ দিল তখন স্থল ও নৌপথে সব ধরণের চলাচল ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেল। চট্টগ্রাম শহরে হরতাল আহ্বান করা হলো। যতীন্দ্র মোহনের নেতৃত্বে তা ছিল শান্তিপূর্ণ। যোগাযোগের জন্য তিনি সাইকেল-ডাক এর ব্যবস্থা করলেন এবং ধর্মঘটীদের সহযোগিতার জন্য নৌ পরিবহন ব্যবস্থা চালু করেন।
ধর্মঘট দীর্ঘয়িত হয়েছিল এবং বড় অংকের ধার করে যতীন্দ্র মোহন দরিদ্র ধর্মঘটকারীদের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। যখন ধর্মঘট শেষ হয় তখন অনেকেই দীর্ঘায়িত আন্দোলনের জন্য তার সমালোচনা করেছিল। পরে বিপুল আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে যতীন্দ্র মোহনের ব্যক্তিগত ত্যাগের কথা জানতে পেরে তাঁকে ধন্যবাদও দিয়েছিল এই সমালোচনাকারীরাই। প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী এই ধর্মঘটে অংশ নিয়েছিল। এই অভূতপূর্ব যৌথ কর্মসূচি দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের এক নতুন চেতনা জাগ্রত করলো। আগে যে কর্মচারীরা মনিবের ভয়ে ভীত ছিল এখন তারা হয়ে উঠল ভয়ডরহীন এবং সাহসী। শুধুমাত্র ইউরোপিয়ানদের চালিত যানবাহন অথবা যেসব যান পুলিশ প্রহরায় চলত সেগুলোই সচল ছিল। কিন্তু যতীন্দ্র মোহনের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতির কারণে কোনো সহিংসতা হয়নি। অনেক ধর্মঘটীকে তাদের চাকরি থেকে বিতাড়িত করা হয়। কিন্তু তাতেও ধর্মঘট ভাঙা সম্ভব হয়নি। তখন বণিক সমিতির লোকেরা সুপারিশ করতে শুরু করলো এবং তাদের প্রতিনিধি রেলওয়ে এজেন্ট মি. নোল্যান্ডের কাছে গেল কিন্তু তিনি আপসে অসম্মতি জানালেন।
ধর্মঘট আরো দীর্ঘায়িত হলে যতীন্দ্র মোহন অনুভব করলেন, যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে বিরাট সংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন অবস্থায় থাকবে এবং যে কোনো সময় অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটে যেতে পারে। কিছু গঠনমূলক কার্যক্রম হাতে নেয়া হলো। যাত্রা মোহনের প্রতিষ্ঠিত একটি বিদ্যালয়কে ক্যাম্পে পরিণত করা হলো। শত শত চরকা ও হাত তাঁত বিতরণ করা হলো এবং ধর্মঘটীরা কাজে লেগে গেল। নতুন উদ্দীপনা এলো। কিন্তু কংগ্রেস ও জনসাধারণ ধর্মঘটকারীদের আরো দীর্ঘ সময় ধরে খাওয়ানো ও পরানোর মত সামর্থ্যবান ছিল না। যতীন্দ্র মোহন সপ্তাহে দু’বার করে খরচের টাকা দিতেন। কিন্তু কেউ অবাক হতো না যে এত টাকা কোথা থেকে আসছে অথবা যতীন্দ্র মোহনই কেন সব দায় নিচ্ছেন। তিনি নিজেই উদ্বীগ্ন ও বিব্রত হলেন। তাঁকে একদিকে ধর্মঘট সংগঠিত করতে হচ্ছিল আবার অন্যদিকে অর্থের সংস্থান করতে হচ্ছিল। কিন্তু ধর্মঘটকারীদের কষ্ট লাঘবে তিনি নিজের সর্বস্ব পণ করেছিলেন। তাই সবশেষে নিজের সব জমি বন্ধক দিয়ে তিনি ৪০ হাজার টাকা ধার করলেন।
ধর্মঘট যখন তুঙ্গে তখন সরকার এগিয়ে এল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায়। পুলিশ প্রধান যতীন্দ্র মোহন ও তার কর্মীদের উপর ১৪৪ ধারা জারি করলো; যাতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো- তারা এক মাস কোনো সমাবেশ করতে পারবেন না। যতীন্দ্র মোহন ভাবলেন, এই আদেশ মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে বিরোধীপক্ষ আরো কঠোর হয়ে উঠল। ধর্মঘটকারীদের তাদের কোয়ার্টার ছেড়ে দিতে চাপ দেয়া হলো। কিন্তু তাদের সব সহায় সম্বল সেখানে রয়ে গিয়েছিল। কংগ্রেস কমিটি তাদের জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললো। কিন্তু যখন শ্রমিকরা কোয়ার্টার থেকে নিজেদের জিনিসপত্র আনতে পাহাড়তলি পৌঁছালো, তাদের গ্রেপ্তার করা হলো। যতীন্দ্র মোহন বিচলিত হলেন। সহকর্মীদের সাথে আলোচনা করে তিনি পুলিশের আদেশ ভাঙার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে এক মিছিল বের করলেন।
