কানাডা ৬ : ০ কাতার
কানাডা কাতারকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে ৬ গোলে বিধ্বস্ত করে এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সূচনা পেয়েছে। খেলাটি এতোটাই একপেশে ছিলো যে কাতারের খেলোয়াড়দের দেখে মনে হচ্ছিল না তারা বাছাই পর্ব পাশ করে বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটেই ৩-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরে নেয় কানাডিয়ানরা।
পরিসংখ্যান বলছে প্রথমার্ধে ম্যাচের গল্পটা কতটা একপেশে ছিল। প্রথমার্ধে কাতারের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে একের পর এক মোট ১৫টি শট নেয় কানাডা, যার মধ্যে ৭টিই ছিল অন টার্গেট।অন্যদিকে কাতারের ফুটবলাররা যেন মাঠেই খুঁজে পাওয়া যায়নি; মাত্র ২টি শট নিলেও তার একটিও কানাডার জাল খুঁজে পায়নি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা কানাডা প্রথম গোলের দেখা পায় ১৬ মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে কানাডার ডিফেন্ডার অ্যালেস্টার জনস্টন বাইলাইন বরাবর দারুণ একটি ক্রস বাড়ান। বল পান জোনাথন ডেভিড। ডেভিডের নেওয়া শক্তিশালী শটটি কাতারের গোলরক্ষক মিশাল বারশাম প্রথম দফায় ঠেকিয়ে দিলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। গোলরক্ষকের হাত ফসকে বলটি ডেঞ্জার জোনে চলে আসলে সেখানে ওত পেতে থাকা কাইল লারিন খুব কাছ থেকে নিখুঁত টোকা দিয়ে বল জালে জড়ান। উল্লাসে ফেটে পড়ে ভ্যানকুভার স্টেডিয়াম।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কানাডা। মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত গতিতে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় ড্রিবলিং করে এগিয়ে যান তেজন বুকানান। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ে শট নেন তিনি। তবে কাতারি ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বলের দিক পরিবর্তন হয়ে চলে যায় বক্সে থাকা জোনাথন ডেভিডের পায়ে। এমন দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেননি ডেভিড। নিখুঁত ও অসাধারণ এক ডান পায়ের ভলিতে বল পাঠিয়ে দেন পোস্টের নিচের ডান কোণে। গোলরক্ষকের কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
ম্যাচের ৩১ মিনিটে নাটকের জন্ম হয়। গতি বাড়াতে থাকা তেজন বুকানানকে পেছন থেকে ফাউল করে বসেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ। রেফারি প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে হোমাম আহমেদকে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু এরপরই ভিএআর হস্তক্ষেপ করে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তা নিয়ে দেখা যায় ফাউলটি আসলে বক্সের ঠিক বাইরে হয়েছিল। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করে কানাডাকে ফ্রি-কিক দেওয়া হয়। তবে কাতারের জন্য আরও বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছিল। যেহেতু বুকানান নিশ্চিত গোলের সুযোগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এবং হোমাম আহমেদ শেষ ডিফেন্ডার, তাই রেফারি হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত বদলে হোমাম আহমেদকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ৩৩ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় কাতার।
১০ জনের কাতারকে পেয়ে আরও হিংস্র হয়ে ওঠে কানাডা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৪৫+৩ মিনিট) আসে ম্যাচের শেষ গোল। আবারও ডান প্রান্ত থেকে আক্রমণ খোলেন জনস্টন। তার বাড়ানো বিপজ্জনক ক্রসে সাইল লারিন শক্তিশালী শট নিলে তা অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন কাতারি গোলরক্ষক। কিন্তু ভাগ্য এবারও সহায় ছিল না কাতারের। রিবাউন্ড হওয়া বলটি আবারও চলে যায় জোনাথন ডেভিডের পায়ে। ফাঁকা পোস্ট পেয়ে কোনো ভুল করেননি ডেভিড; অনায়াসেই বল জালে জড়িয়ে নিজেরদ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি উদযাপন করেন এই কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের বাকি সময়ে আরও ৩ গোল হজম করে কাতার। ৬৪ মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান নাথান সালিবা। ৭৫ মিনিটে মোহামেদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোল করেন। যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ডেভিড।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটা কানাডার প্রথম জয়। এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে মোট ৬ ম্যাচ খেললেও একবারও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। অবশেষে তৃতীয় বিশ্বকাপে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেল কানাডা; ঐতিহাসিক জয়টা গোল উৎসব করে স্মরণীয় করে রাখল কানাডা।
