ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান ঘটাতে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, কেবল সামরিক শক্তি বা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো দেশের সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যা সমাধান করার চিন্তা বাস্তবসম্মত নয়।
বৃহস্পতিবার ১৮ জুন প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে ইলেকট্রনিক্যালি সই করার একদিন পর।
ভ্যান্স বলেন, ইসরায়েলের কিছু নেতা, বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ও ইতামার বেন-গভির এ চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব কী? নয় মিলিয়ন মানুষের একটি দেশ হয়ে আপনারা প্রতিটি জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান হত্যার মাধ্যমে করতে পারেন না।’ তিনি ইসরায়েলকে চলমান আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বহু বছর ধরে ওয়াশিংটন ইসরায়েল সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের প্রতি এমন কঠোর ভাষা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় ব্যতিক্রমী। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং দখলদারিত্ব ইরান যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের প্রচেষ্টাকে বারবার জটিল করে তুলছে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সম্প্রতি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যুদ্ধ পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েলের বর্তমান যুদ্ধ কৌশলের কারণে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে খুঁজছেন বলে প্রতিবার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংস করার প্রয়োজন নেই। সেখানে অনেক মানুষ বসবাস করে এবং তারা সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নয়।’
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সমর বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের প্রতি এমন কঠোর ভাষা ইসরায়েলের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নতুন করে মূল্যায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এবং বেপরোয়া হত্যাকান্ড ইরান যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের প্রচেষ্টাকে বারবার জটিল করে তুলছে বলে মার্কিন প্রশাসন অভিযোগ করে আসছে। এমতাবস্থায় ইরান চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় মাপের পরিবর্তনের আগাম সংকেত দিচ্ছে বলেই সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
