বেলজিয়াম ১ : ১ মিশর
ইউরোপের অন্যতম ফুটবল শক্তি বেলজিয়ামকে ১-১ গোলে আটকে রেখে নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করলো মধ্যপ্রাচ্যের দল মিশর। তবে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে তাদের লড়াইয়ের ধরন স্পষ্টতই বার্ত দিচ্ছিলো যে এবারের বিশ্বকাপে মিশর কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। অন্যদিকে এই খেলার মাধ্যমে বেলজিয়াম বিশ্বকাপ ফুটবলে নিজেদের ৩২৫ মিনিটের গোল খরা কাটিয়ে উঠেছে।
শুরুতে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না কেউ। বেলজিয়ামের দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট শটের পর, ১৯তম মিনিটে গোলের জন্য প্রথম শটেই সাফল্য পায় মিশর। মোহামেদ সালাহর পাস বক্সের বাইরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ইমাম আশুর। কোনো সুযোগই পাননি গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। এর পর বল পায়ে রাখতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছিল বেলজিয়ামকে। অন্যদিকে, মিশর গোলের পর আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। ৩৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত। মোস্তাফা জিকোর কোনাকুনি নিচু শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন কোর্তোয়া। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পান বেলজিয়ামের জেরেমি ডোকু। কিন্তু পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে উড়িয়ে মারেন ম্যানচেস্টার সিটি উইঙ্গার। বিরতির ঠিক আগে কর্নার লাফিয়ে পাঞ্চ করার চেষ্টায় ব্যর্থ হন কোর্তোয়া। তবে বেলজিয়ামের কপাল ভালো, দূরের পোস্টে বল নাগালে পাননি মিশরের খেলোয়াড়। এবং এরই মাধ্যমে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মিশর।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি ও ধার দুইই বাড়িয়ে দেয় বেলজিয়াম এবং অষ্টম মিনিটে ভাগ্য সহায় থাকলে সমতায় ফিরতে পারত তারা। বক্সের বাইরে থেকে কেভিন ডে ব্রুইনের ফ্রি-কিক পোস্টে লাগে। দুই মিনিট পর অন্য প্রান্তেও গোল হতে হতে হয়নি। বক্সের ভেতর থেকে সালাহর হেড ফিরিয়ে দেন কোর্তোয়া। পরের কয়েক মিনিটে দুই দলই সুযোগ পায় বেশ কয়েকটি। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি কেউ।
৬৬তম মিনিটে বদলি নেমেই দলের সমতায় ফেরায় ভূমিকা রাখেন বেলজিয়ান তারকা লুকাকু। ডান দিক থেকে তমাস মুনিয়েরের পাসে বক্সে শট নিতে যান অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার। তাকে আটকাতে স্লাইড করেন মিশরের দুই খেলোয়াড়। ডিফেন্ডার হানির পায়ে লেগে জালে জড়ায় বল এবং এরই মাধ্যমে বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের ৩২৫ মিনিটের গোলখরা কাটল। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ আসর পর্যন্ত ২৪৪ মিনিট গোলহীন থাকার পর বিশ্বকাপে তাদের দীর্ঘতম গোলখরা এটিই।
৮৩তম মিনিটে এগিয়েও যেতে পারত বেলজিয়াম। বক্সে মেচেলের হেড ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন মিশরের গোলরক্ষক। তিন মিনিট পর সুযোগ পেয়ে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি লুকাকু। বাকি সময়েও কেউ কারো জালে বল জড়াতে না পারায় ১-১ সমতাতেই শেষ হয় খেলাটি।
