মেক্সিকো ৩ : ০ চেক প্রজাতন্ত্র
প্রথমার্ধের একটিও গোল না করেই চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো। আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত করে ফেলা মেক্সিকোর জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব তেমন একটা ছিল না। একাদশে তাই পাঁচটি পরিবর্তন আনে তারা। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয়ার্ধের দুরন্ত পারফরম্যান্সে এবারের আসরের প্রথম দল হিসেবে তিন ম্যাচের সবকটি জিতল তারা। ১৯৯০ সালে ইতালির পর স্বাগতিক দেশের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জয়ের প্রথম নজিরও এটিই।
ম্যাচের প্রথম মিনিট পাঁচেক বল বেশি ছিল মেক্সিকোর পায়ে। তবে সপ্তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পায় চেক প্রজাতন্ত্র। ডান প্রান্ত থেকে মেক্সিকোর একজনের পায়ে লেগে আসা বল ফাঁকায় পেয়ে যান দেনিস ভিসিনস্কি। তার শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। একটু পর মেক্সিকো দ্রুত গতিতে পাল্টা আক্রমণ করে তিন বনাম দুই পরিস্থিতি তৈরি করে, কিন্তু লুইস রোমো ভেতরে ঢুকে আসায় তারা কোনোমতে একটি শটও নিতে পারেনি। চতুর্দশ মিনিটে ভিসিনস্কির শট ওপর দিয়ে চলে যায়। পানি পানের বিরতির পর ২৬তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে বিপজ্জনকভা বক্সে ঢুকে পড়েন সেই ভিসিনস্কি। তবে সঙ্গী পাননি কাউকে। মেক্সিকোর রক্ষণ জটলা থেকে বরে হতেও পারেননি।
ম্যাচের প্রথম ৩৫ মিনিটে মেক্সিকো একটি শটও নিতে পারেনি গোলে। ৩৭তম মিনিটে প্রথম চেষ্টা করেন ইজরায়েল রায়েস। বক্মের ভেতর হেড থেকে উড়ে আসা বলে তার ওভারহেড কিক বেশ বাইরে দিয়েই চলে যায়। দু মিনিট পর প্রথমবার লক্ষ্যে বল রাখতে পারে তারা। হোর্হে সানচেরে জোরাল শট ঠেকিয়ে দেন চেকিয়ার গোলকিপার মাতেই কোভার। ৩০ সেকেন্ড পর রবের্তো আলভারাদোর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে ফাঁকা পেয়ে আচমকা শট নেন হুলিয়ান কিনোনেস। এবারের আসরের প্রথম গোলস্কোরারের এই শট ওপর দিয়ে চলে যায়।
প্রথমার্ধে চেকিয়ারা গোলে ৫টি শট নিয়ে একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অন্তত সেই খরা কাটাতে পারে তারা। তবে লুকাস চের্ভের দুর্বল শট ধরতে কোনো সমস্যই হয়নি মেক্সিকোর গোলকিপারের। ম্যাচের প্রথম কর্নারটি হয় দ্বিতীয়ার্ধর ৫৩তম মিনিটে। তবে তা কাজে লাগাতে পারেনি চেক প্রজাতন্ত্র। এর পরপরই চাভেজের সেই গোলে এগিয়ে যায় মেক্সিকো। সেই গোলের রেশ থাকতে থাকতেই আরেকটি গোল। ৬১তম মিনিটে ড্রিবল করে দারুণভাবে এগিয়ে যান মোরা। তুমুল প্রতিভাবান তরুণ চাইলেই সহজে ডান দিকে পাস দিতে পারতেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের দুজনের মাঝ দিয়ে বুদ্ধিদীপ্তভাবে বল বাড়ান তিনি ভেতরে হোর্হে সানচেজের দিকে। তাকে আটকাতে এগিয়ে আসেন চেকিয়ার গোলকিপার কোভার। কিন্তু তার শরীরে লেগে বল ছয় গজের বক্সে ঢুকে পড়ে। সেই বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তমাস হোলস অদ্ভুতভাবে মেরে বসেন সানচেজের দিকে, যিনি কোভারের পাশে পড়ে মাটিতেই ছিলেন। তার গায়ে লেগে ফেরত আসা বলে স্লাইডিংরত হোলসের সেকেন্ডের ভগ্নাংশ আগে ছোঁ মেরে শট নিয়ে ফাঁকা জালে পাঠিয়ে দেন কিনোনেস।
দুই গোলের পর চেক প্রজাতন্ত্র আরও মিইয়ে যায়। মেক্সিকো দাপট ধরে রেখেই এগোয়। আরেকটি গোলের দেখা যায় তারা যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে। গোলটি পেতে পারতেন বদলি নামা সান্তিয়ানো হিমেনেজ। কিন্তু তার শট দারুণ রিফ্লেক্সে ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার কোভার। ফিরতি বলে দারুণ ফিনিশিংয়ে গ্যালারি আরও উত্তাল করে তোলেন বদলি নামা আরেকট ফুটবলার ফিদালগো।
