বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর গ্রুপ ‘ডি’র অন্যতম ফেভারিট তুরস্ক মাঠের পারফরম্যান্সে নিজেদের সামর্থ্যের প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। হাফ টাইমের পর পুরো সময় ১০ জনের প্যারাগুয়ের বিপক্ষেপ গোল বের করতে না পেরে ১-০ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে তারা।
গোল হজমের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে তুরস্ক। আর্দা গুলার, হাকান চালহানওগ্লু এবং কেনান ইলদিজদের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। প্রথমার্ধের বড় একটি সময় বলের দখল ছিল তুরস্কের কাছেই। তবে আধিপত্য দেখালেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ছিল সুশৃঙ্খল ও দৃঢ়। প্রথমার্ধের ৩৫তম মিনিটে সমতায় ফেরার সেরা সুযোগ তৈরি করেছিল তুরস্ক। চালহানওগ্লুর নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে মের্ত মুলদুরের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্য সহায় হলে তখনই ম্যাচে সমতা ফিরতে পারত তুর্কিরা। কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশাই বাড়ে তাদের।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচে বড় নাটকীয়তা তৈরি হয়। ভিএআর পর্যালোচনার পর প্যারাগুয়ের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। মের্ত মুলদুরকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ফলে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় প্যারাগুয়ে।
সুবিধা পাওয়ার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্ক ম্যাচে ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১০ জনের দল নিয়েও প্যারাগুয়ে অসাধারণ শৃঙ্খলা ও লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দেয়। অন্যদিকে তুরস্ক বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলের জন্য প্রয়োজনীয় ফিনিশিংয়ের অভাবে ভুগতে থাকে। ম্যাচের শেষ দিকে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় তুরস্ক। যোগ করা সময়ে আর্দা গুলারের ক্রস থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে অধিনায়ক হাকান চালহানওগ্লু বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নিলেও তা পোস্টের বাইরে চলে যায়। এরপর আর কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
যার ফলে ১-০ গোলের মূল্যবান জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্যারাগুয়ে। এই জয়ে তাদের নকআউট পর্বে ওঠার আশা টিকে থাকলো। অন্যদিকে গ্রুপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত তুরস্ক পরপর দুটি খেলায় হারের ধাক্কায় ১ ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো।
