বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু এলাকার তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের নির্দেশ দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।
গতকাল রোববার ২৮ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জাতীয় সংসদকে জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “থানচির তিন্দু এলাকার স্কুলটিকে জাতীয়করণ করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দেশ পাঠিয়েছেন। আজকে মহান সংসদে তিনি স্লিপ পাঠিয়েছেন। আমি জানাতে চাই, স্কুলটি জাতীয়করণ করা হবে শিগগিরই।’
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের সংগ্রামের বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন তাঁর সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নিজেই নৌকা চালান। শুধু মার্চ ও এপ্রিল মাসে নৌকা চালিয়ে তিনি ৪০ হাজার টাকা আয় করেন, যার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করেন সহকর্মীদের বেতন পরিশোধে।’ আতিকুর রহমান আরো বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি বিদ্যালয় টিকিয়ে রাখাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এই প্রধান শিক্ষক অনুপ্রেরণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।বিষয়টি জানার পরপরই প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তবে শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় নিয়মিত বেতন দিতে পারে না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই সংকট মোকাবিলায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছুটির দিনগুলোতে থানচি-তিন্দু-রেমাক্রী নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করেন। সেই আয় থেকে নিজের প্রয়োজন মেটানোর পরিবর্তে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে অর্থ ব্যয় করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। এই বিষয়ে প্রথমে চট্টগ্রাম ভিত্তিক অনলাইন টিভি ‘সি প্লাস টিভি’ প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর বিষয়টি যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে।
