চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মহানগরীতে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর অপরাধ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। মাদক ও কিশোর গ্যাং একে অপরের পরিপূরক হয়ে সমাজে অপরাধের বিস্তার ঘটাচ্ছে। মাদকের প্রভাবে বিচারবোধ নষ্ট হয়ে খুন, ধর্ষণ, সহিংসতা ও অন্যান্য জঘন্য অপরাধের প্রবণতাও বাড়ছে। রোববার ( ২৮ জুন) নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী যুব বিভাগের উদ্যোগে যুব র্যালি অনুষ্ঠানের পূর্ব সমাবেশে র্যালি পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনের নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগ এবং মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনকে সমন্বিতভাবে নৈতিক শিক্ষা, সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন ও জীবনযাপনের প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে। রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করলেই মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চায় জামায়াতের যুব বিভাগ। দেশের কিশোর ও তরুণ সমাজ যেন কোনোভাবেই এই মরণব্যাধির ফাঁদে না পড়ে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সচেষ্ট। তিনি আরও বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকবিরোধী আন্দোলনকে কেবল একটি দিবসের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি মহল্লা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিসরে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তরুণদের নৈতিক, মানবিক ও আদর্শিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই মাদকমুক্ত, সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুব কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালীর সভাপতিত্বে এবং যুব কমিটির সেক্রেটারি আ ন ম জোবায়েরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত র্যালি ও সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস. এম. লুৎফর রহমান, যুব কমিটির নগর সহ-সভাপতি মুহাম্মদ ইসমাইল, পাঁচলাইশ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি, ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী তাওসীফ সুলতান রাফি এবং ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ওয়াসি উদ্দিন আনসারী। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন নগর জামায়াতের অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, সদরঘাট থানা জামায়াতের আমীর আব্দুল গফুর, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী, কোতোয়ালী থানা সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
