চট্টগ্রাম : পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম, পরিচ্ছন্ন শহর, সবুজ নগর, প্রফুল্ল মন, সুস্থ জীবন’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের উদ্যোগে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র্যালির উদ্বোধন করছেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। শনিবার ( ২৫ জুলাই ) সকালে কোর্ট হিলস্থ অফিস প্রাঙ্গন এলাকা থেকে তিনি ঝাড়ু হাতে নিয়ে ময়লা পরিস্কারের মাধ্যমে এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ মোতাহার হোসেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) শারমিন জাহান, পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মনোয়ারা বেগম, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তার, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মসূচীতে অংশ নেন| পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র্যালির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ বর্তমানে জনস্বস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে সাধারণ জনগণের সচেতনতা সৃষ্টি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে| কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে, কারণ জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে|
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| এ ধরনের কর্মসূচি শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে| তিনি সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে এ ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) দপ্তরের উদ্যোগে ” পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ বাস্তবায়নে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে একই দিনে একটি র্যালি বের করা হয়। এসময় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক দপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মনোয়ার হোসেন, সহকারী পরিচালক (ডেন্টাল) ডা. এএসএম ইমতিয়াজ হোসাইনের নেতৃত্বে ও উপস্থিতিতে বিল্ডিংয়ের ছাদ, আঙ্গিনা, নালা-নর্দমা ও বাগান পরিস্কার করা হয়| এতে স্বাস্থ্য পরিচালক দপ্তরের সকল কর্মকর্তা ম-কর্মচারীগণ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন|
স্বাস্থ্য পরিচালক দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছুই নেই। এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব| এয়ার কন্ডিশনার, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারিকেলের মালা, কন্টেইনার, মটকা, ব্যাটারী শেল ও পরিস্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পারে। হাসপাতাল, ঘর ও আশপাশের যে কোন পাত্রে বা জায়গায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিস্কার করলে এডিস মশার লার্ভা মরে যায়|ম। জীবন বাঁচানোর জন্য যেকোন উপায়ে এডিস মশা ধ্বংস করতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং মশারি ব্যবহারের মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই।
