নয়াদিল্লি, ভারত : ভারতের মাটি থেকে সশস্ত্র নকশালবাদকে কার্যত নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ‘মতাদর্শগত নকশালবাদ’ বা ‘মানসিক নকশালবাদ’ এখনও দেশের জন্য এক বড় বিপদ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাজধানী দিল্লির লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ঠিক এই ভাষাতেই দেশবাসীকে সতর্ক করেচেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই আদর্শগত নকশালরা সুযোগ পেলেই ফের ভারতে হিংসা ও নৈরাজ্য ছড়ানোর চেষ্টা করবে।
২০১৪ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর নকশালবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করার যে শপথ নিয়েছিল, তা পূরণ হয়েছে বলে জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদী বলেন, “একসময় নকশালবাদ দেশের মাটিকে রক্তে ভিজিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আজ আর মাওবাদী জঙ্গিদের সেই শক্তি নেই।” তিনি আরও জানান, একসময় যে জায়গাগুলো নকশালদের বুলেটের শব্দে আর রক্তপাতে পরিচিত ছিল, আজ সেখানেই উন্নয়ন, বিশ্বাস এবং প্রচেষ্টার তেরঙ্গা সগর্বে উড়ছে।
সশস্ত্র মাওবাদীদের সঙ্গে মতাদর্শগত মাওবাদীদের পার্থক্য টেনে প্রধানমন্ত্রী এদিন তাঁর সবচেয়ে কড়া বার্তাটি দেন ‘মানসিক নকশালবাদ’-এর বিরুদ্ধে। মোদীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে মাওবাদী মানসিকতা সম্পন্ন এই মানুষগুলো দেশের ক্ষমতার অলিন্দে বসে সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা জঙ্গলের সশস্ত্র নকশালদের নির্মূল করে দেশকে সেই সংকট থেকে মুক্ত করতে সফল হয়েছি। কিন্তু আদর্শগত নকশালবাদ বা দিমাগি নকশালবাদ এখনও সুযোগ খুঁজছে।” এই ধরনের চিন্তাধারা দেশে ফের ‘হিংসা ও নৈরাজ্যের পথ’ খোঁজার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে মোদী বলেন, “এই আদর্শগত নকশালদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের একঘরে করে দিতে হবে।”
দেশ গড়ার মূল স্রোতে এবং ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশের যুবসমাজকে যুক্ত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের রাজনৈতিক মহলের মতে, মোদীর এদিনের এই ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে সরকারের নকশাল-বিরোধী লড়াইয়ের সংজ্ঞাটি আরও বিস্তৃত হলো। মধ্য ও পূর্ব ভারতের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনের পাশাপাশি, এবার সেই সমস্ত বুদ্ধিজীবী বা আদর্শগত ইকোসিস্টেমের বিরুদ্ধেও সরকার যে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে, মোদীর কথায় তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
সংবাদ সূত্র – কলকাতা নিউজ২৪.কম
