চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মহানগরের আতুরের ডিপো এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। ইত্যাদি জিন্স লিমিটেড কারখানা বিক্রি বা হস্তান্তর করা হচ্ছে এমন আশঙ্কায় শ্রমিকরা এমন বিক্ষোভ করেছেন। বুধবার ( ১৯ আগষ্ট ) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আতুরের ডিপো এলাকার প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত শ্রমিকেরা সড়ক ছাড়েননি। শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে আতুরার ডিপো এলাকার প্রধান সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন কর্মস্থলগামী মানুষ। এছাড়া চলাচলকারী যাত্রী ও সাধারণ মানুষও চরম দুর্ভোগে পড়েন। এদিকে অবরোধের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। সেখানে শিল্প পুলিশ ও নগর পুলিশের একাধিক দল উপস্থিত ছিল।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ চট্টগ্রামের পুলিশ সহকারী সুপার বাঁধন বলেন, আমরা শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সড়ক অবরোধের কারণে আতুরের ডিপো এলাকার প্রধান সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। তিনি বলেন, আমরা শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করেছি। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের জানানো হয়েছে কারখানাটি বিক্রি করে দেওয়া হবে। কারখানা বন্ধ বা বিক্রি করা হলে আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে কাজ করছেন এমন শ্রমিকও রয়েছেন। এক শ্রমিক বলেন, আমাদের বলা হয়েছে কারখানা বিক্রি করে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী আমরা তিন মাসের বেতন অগ্রিম দাবি করছি। এখানে ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে কাজ করা শ্রমিক রয়েছেন। তাদের লিভ সেলারিসহ আইন অনুযায়ী পাওনা দিতে হবে।শ্রমিকদের দাবি, কারখানা বিক্রি বা হস্তান্তর করা হলে তাদের দীর্ঘদিনের চাকরির পাওনা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এ দাবিতে তারা সড়কে অবস্থান নেন।
তবে শ্রমিকদের অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, কারখানা হস্তান্তরের একটি উদ্যোগ থাকলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছে। এখন মালিকপক্ষই আগের মতো কারখানাটি পরিচালনা করবে।
ইত্যাদি জিন্স লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক (এইচআর) রাশেদ সিকদার বলেন, আমাদের কারখানা হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে শ্রমিকেরা কাজ করবেন বলে জানালে পরে সেটি বাতিল করা হয়। মালিক আবার কারখানাটি চালাবেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে গত ১৫ আগস্ট একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের কোনো বেতন বকেয়া নেই। তারা কেন সড়ক অবরোধ করছেন, আমরা জানি না। সকালে মালিকপক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, কারখানাটি মালিকই চালাবেন।
