চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে কালজয়ী নাটক চিত্রাঙ্গদা মঞ্চস্থ হয়েছে। চিত্রাঙ্গদা’র চরিত্রটি শুরুতে প্রচলিত নারীরূপের বিপরীতে নির্মিত। মণিপুরের রাজকন্যা হয়েও সে যোদ্ধা, শাসকের উত্তরাধিকারী। তার পরিচয়ের মধ্যে কোমলতা ও শক্তি দুই-ই আছে। কিন্তু অর্জুনের কাছে আকর্ষণীয় হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাকে নিজের স্বাভাবিক সত্তা নিয়ে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে। এ নিয়ে আবর্তিত হয় চিত্রাঙ্গদার কাহিনি।
রবীন্দ্রনাথের এই নৃত্যনাট্যটি মঞ্চে তুলে এনেছে অভ্যুদয় সংগীত অঙ্গন। আজ শুক্রবার নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে (টিআইসি) নৃত্যনাট্যের দুটি প্রদর্শনী মঞ্চস্থ হলো। নৃত্যনাট্যের নির্দেশনা দিয়েছেন সংগীত শিল্পী শ্রেয়সী রায়। নৃত্যে ছিল নৃত্যরূপ একাডেমি। নৃত্য পরিচালনা করেন প্রিয়াংকা বড়ুয়া। নিপ্পন পেইন্টের সৌজন্যে অভ্যুদয়ের দুদিনের অনুষ্ঠানে আগামীকাল শনিবার রয়েছে ‘আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে’ শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান।
শুক্রবার সন্ধ্যায় গান নৃত্য ও কথামালায় চিত্রাঙ্গদার কাহিনি ফুটিয়ে তোলা হয়। অর্জুন প্রেমে মোহিত হওয়ার পর চিত্রাঙ্গদার মধ্যে নারীত্বের আকঙ্খা তৈরি হয়। কিন্তু চিত্রাঙ্গদার প্রেম প্রত্যাখাত হয় অর্জুনের কাছে। তখন, চিত্রাঙ্গদার আকুতি, ‘অর্জুন, তুমি ফিরে এসো, ফিরে এসো, ক্ষমা দিয়ে করো না অসম্মান।’ কখনো গেয়ে ওঠেন বিরহের গীত। ‘বধূ কোন আলো লাগল চোখে…বুঝি দীপ্তিরূপে ছিলে সূর্যালোকে।’
শেষাংশে অর্জুন চিত্রাঙ্গদার এই আত্মবিশ্বাস, সততা ও ব্যক্তিত্বের প্রতি মুগ্ধ হন এবং তাকে পূর্ণ মর্যাদায় গ্রহণ করেন। চিত্রাঙ্গদা আত্মবিশ্বাসে গেয়ে ওঠেন, ‘আমি চিত্রাঙ্গদা, আমি রাজেন্দ্রনন্দিনী। নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী ।‘

সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন আদৃতা রুদ্র, প্রাচী সেন, উর্বশী, এলড্রিন ক্রাউলী, যীশু, শর্মিলা, ডালিয়া, পান্না, মুন্নী, বনি, প্রিয়ন্তী, ঐশী ও অমিতা। নৃত্য পরিবেশন করেন সুচনা বসাক, প্রিয়াংকা বড়ুয়া, অন্তর দে, অত্রি ভট্টাচার্য্য, ঐশী, জয়া, পুনম, সেঁজুতি, প্রাপ্তি, শান্তশ্রী, আরশি, শ্রীতমা, কথা, পূর্বা, তুশি, পুনম, পূর্ণতা, তারা, অত্রি, সম্প্রীতি ও সুপর্ণা। পাঠ করেন অণির্বাণ ভট্টাচার্য ও অমিতা। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন রিপন শীল, শ্যামল দাশ, রিকি বসাক, নন্দন নন্দী, ফারুক. সানি দে ও ক্যউপ মারমা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অভ্যুদয়ের সাধারণ সম্পাদক শৈবাল বড়ুয়া।
