শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

৫-৭ দিনের মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

ছবি : সংগৃহীত

 

সরকার জ্বালানি সংকট সমাধানে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘বিদেশ থেকে আমদানি করা গ্যাস এনে রাখার জন্য সাগরে দুটি জাহাজ রয়েছে। যার মালিকানা বিদেশি কোম্পানির। তার মধ্যে একটি জাহাজে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। যে কারণে অপর একটি জাহাজের ওপর চাপ পড়েছে। পাইপ লাইনে সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। এখন আমরা চেষ্টা করছি গ্যাস আনার জন্য। আলহামদুলিল্লাহ গত সপ্তাহ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আস্তে আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। হয়তো আরও ৫-৭ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে ইনশাআল্লাহ। ’

তিনি আরও বলেন, ‘তেলের মতো গ্যাসের ক্ষেত্রেও একটা অসাধু চক্র তৈরি হয়েছে। যারা একটি মেশিন দিয়ে জোর করে পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস নিয়ে যাচ্ছে। সে নিজে লাভবান হলেও অন্য দশজনকে কষ্টে ফেলছে। এই জিনিসগুলোকে আমাদের রোধ করতে হবে। সরকার একা এটা পারবে না। কেউ অবৈধভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল নিয়ে গেলে সবাইকে প্রতিরোধ করতে হবে। ’ শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মন্দিরে আর্থিক অনুদান দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই দায়িত্ব অনেক কঠিন দায়িত্ব। বিশেষ করে বিগত ১ যুগেরও বেশি সময় একটি স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্টের অধীনে ছিল এই বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশকে শক্তি দিয়ে মানুষের সমর্থন দিয়ে নয় বরঞ্চ অস্ত্রের ঝনঝনানি দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের ও কথা বলার অধিকার জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে মানুষের কাঁধে তারা চেপে বসেছিল। সেসময় দেশের মানুষের ওপর কীভাবে অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে তা দেশের মানুষই দেখেছে। আমরা বিভিন্নভাবে দেখেছি ও জেনেছি কিভাবে দেশের মানুষের ও রাষ্ট্রের সম্পদ নিজেদের স্বার্থে ব্যয় করেছে। এমনকি বিদেশেও পাচার করেছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকাশিত শ্বেতপত্র জনাব তারেক রহমান বলেন, ‘ওই শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে যে, বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ ও এই সম্পদ সম্পূর্ণভাবে দেশের মানুষের। আমরা সরকার গঠনের পর থেকে এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা করছি। এইসব সম্পদ যাতে দেশের মানুষের জন্য ব্যয় করা হয়। আমাদের লক্ষ্য হলো দুইটি। একটি- মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে- তৃণমূল ও সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। ’

দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী মন্তব্য করে মাননীয় সরকারপ্রধান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তখন তিনি নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়ে গেছেন। বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা অনার্স পর্যন্ত ফ্রি করে দিবো। আমরা ঢাকা-১৭ আসনে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মধ্য দিয়ে সেই কাজ উদ্বোধন করেছি। নভেম্বর বা ডিসেম্বর থেকে ৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাতে পারবো। আমাদের একটি শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী জাতি চাই। এভাবে দেশ আস্তে আস্তে স্বাবলম্বী হবে।’

জনাব তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে ধর্মের কারণে কোনো ভেদাভেদ নেই। সারাদেশে অনেক ধর্মগুরু আছেন যারা কষ্ট করেন। আমরা তাদের সহায়তার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই কাজও আমরা শুরু করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। এভাবে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড দেওয়ার ওয়াদা করেছিলাম। কৃষকের ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করতে পেরেছি। এভাবে যেসব প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম তার প্রত্যেকটিই আমরা শুরু করতে পেরেছি। এখানেই স্বৈরাচার ও বর্তমান সরকারের পার্থক্য। যেহেতু আমাদের নির্বাচিত করেছে এই দেশের জনগণ। সেজন্য আমাদের দায়িত্ব হলো সরকারের পক্ষে যতটুকু সম্ভব জনগণের ওয়াদা পূরণের চেষ্টা করব। পর্যায়ক্রমে আমরা অন্যান্য প্রতিশ্রুতি পালনের চেষ্টা করবো। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমি সবগুলো বিষয় খেয়াল রাখার চেষ্টা করি। আমি চেষ্টা করি কারও কোনো সমস্যা হলে সেগুলো সমাধানের জন্য। তবে যেকোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি সময় লাগে।’

চলমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সমস্যা সারা দেশে আছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বহু দেশে আছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ ব্যাপারে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষও এ ব্যাপারে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আমরা সরকার গঠনের ১২ দিন পর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরু হয়। স্বাভাবিকভাবেই অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রভাব পড়ে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রথমে আমরা জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে কিভাবে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া যায় সেটা করেছি। বিভিন্ন দেশের তেলের দাম বাড়লেও দেশে প্রথমে আমরা দাম বাড়াইনি। কিন্তু কিছু অসাধু মানুষ তেলের ব্যবহার এমনভাবে শুরু করলো আমরা বাধ্য হয়ে তেলের দাম বাড়িয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই বলেন দেশের গ্যাস উত্তোলন বাদ দিয়ে বিদেশ থেকে কেন গ্যাস আমদানি করছে? হয়তো দেশের মাটিতে গ্যাস থাকতে পারে। কিন্তু সেটার প্রকৃত অবস্থা আমরা এখনও জানি না। কারণ গত ১৭ বছর স্বৈরাচারী সরকার পুরো জিনিসটাকে এমনভাবে বিদেশ নির্ভর করে তুলেছিল যে, দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পঙ্গু বানিয়ে রেখেছিল। অন্যদিকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্নভাবে এখানে সুবিধা দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ যাতে জ্বালানিখাতে পুরোপুরি বিদেশনির্ভর হয় সেই ব্যবস্থা তারা করেছিল। তবে বর্তমান সরকার আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে বাপেক্সকে সক্রিয় করতে যেসব উদ্যোগ দরকার সেগুলো করেছি। কিন্তু গ্যাসের অনুসন্ধান অনেক ব্যয়বহুল। ১৩০টি গ্যাস কূপ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছি। ফলে যখনই আমরা গ্যাস পাব তখন এই সমস্যার উন্নতি হবে।’

সম্পর্কিত খবর

দল-মত, বর্ণ ও গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের মানুষের জন্য নিরপেক্ষভাবে কাজ করার শপথ নিয়েছি : রাষ্ট্রপতি জনাব ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ছবি : সংগৃহীত   গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরানসহ (রহ.) অসংখ্য ওলি-আউলিয়ার স্মৃতিধন্য সিলেটে...

বিজিসি ট্রাস্টের দিনব্যাপী সিজেন রিজিওনাল ক্লাস্টার মিটিং অনুষ্ঠান সম্পন্ন

চট্টগ্রাম : সাংবাদিকতা শিক্ষা ও গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়া এবং সিজেন-এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ লক্ষ্যে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে...

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ

ছবি : সংগৃহীত   ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ও আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে...

যে কোনো সময় এক দফার দাবি আসতে পারে : জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

ছবি : সংগৃহীত   জাতির প্রয়োজনে যে কোনো সময় এক দফার দাবি আসতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা...

কক্সবাজারে ট্রেনে যাতায়াতের চাহিদা বাড়ায় যুক্ত হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এটি আগামী...

চট্টগ্রামে হারানো অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এসব অস্ত্র সমাজের সবার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ : র‍্যাব-৭

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে হারিয়ে যাওয়া সরকারি অস্ত্র উদ্ধারে সবার সহযোগিতা চেয়েছে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, হারানো অস্ত্র উদ্ধার না...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত