পশ্চিম এশিয়ায় ফের উত্তেজনা চরমে। গত কয়েক ঘণ্টায় এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা অঞ্চলটিকে এক নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীকে ‘কোড ১০০’ অ্যালার্টে উন্নীত করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই অ্যালার্টের আওতায় রয়েছে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি, নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনীগুলো।এই ধরনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা সাধারণত তখনই জারি করা হয় যখন কোনো দেশ বড় ধরনের সামরিক হুমকি বা আকস্মিক আক্রমণের আশঙ্কা করে। ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনও সরাসরি কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে আঞ্চলিক গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, তেহরান সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় বাহিনীর চলাচলও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে আমেরিকাতেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাম্প ডেভিডে তাঁর অবস্থান হঠাৎ করেই বাতিল করে দিয়ে হোয়াইট হাউসে ফিরে এসেছেন। সাধারণত ক্যাম্প ডেভিডে থাকার সময় তিনি তুলনামূলকভাবে কম জনসমক্ষে আসেন, কিন্তু এবারের দ্রুত প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করছেন। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও তার মার্কিন সফর বাতিল করে দেশে ফিরে গেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। নেতানিয়াহুর এ ধরনের আকস্মিক সিদ্ধান্ত ইসরায়েলি রাজনীতিতেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে তিনি দ্রুত দেশে ফিরে সামরিক ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি নিতে চেয়েছেন।
মার্কিন দূতাবাসগুলো পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আমেরিকান নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, হঠাৎ করে ফ্লাইট বাতিল হওয়া, আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ভ্রমণে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হতে পারে। বিমান সংস্থাগুলোও কিছু রুটে সতর্কতা অবলম্বন শুরু করেছে। যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে যারা ব্যবসা বা পারিবারিক কারণে অঞ্চলটিতে আছেন।
ইতালি সরকার আলাদাভাবে সৌদি আরবে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের উচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। ইতালির বিদেশ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং যেকোনো সময় নতুন করে সংঘাত বাধতে পারে। এই সব ঘটনার পেছনে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘদিনের জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা।
ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব, গাজা ও লেবানন পরিস্থিতি, এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ সব মিলিয়ে অঞ্চলটি এখন এক বিস্ফোরণমুখী অবস্থায় রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘কোড ১০০’ অ্যালার্ট শুধু সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিতই নয়, বরং এটি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে যোগাযোগের ভাষাও বদলে দিতে পারে। যদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। জ্বালানি বাজার ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। তেলের দামে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং বীমা কোম্পানিগুলো শিপিং রুটে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংবাদ সূত্র – কলকাতা নিউজ২৪.কম
