জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন জুলাই গণআন্দোলনের অন্যতম সম্মুখসারীর ছাত্র নেত্রী তাজনূভা জাবীন। তিনি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। আজ রোববার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্ট করে তাজনূভা তাঁর পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর অংশ নিতে না পারার বেদনার কথাও উল্লেখ করেন।
ঢাকা-১৭ আসনে তাজনূভাকে প্রার্থী করেছিল এনসিপি। কিন্তু জামায়াতের সাথে এনসিপির জোট করার প্রক্রিয়ায় তিনি হতাশ এটা উল্লেখ করে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন এবং বলেছেন এগুলো সবই পূর্ব পরিকল্পিত। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে মানুষ তাঁকে যে অর্থ অনুদান হিসেবে পাঠিয়েছেন, তা তিনি ফেরত দেওয়ার কথাও লিখেছেন। কীভাবে টাকা ধীরে ধীরে ফেরত দেবেন, তা তিনি বিস্তারিত লিখে জানাবেন এবং সে জন্য তিনি একটু সময় চেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আগে এনসিপির উচিত ছিলো নিজেকে একটি স্বতন্ত্র শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলা। সেটার জন্য সময় দিলও ক্ষতি নেই। কিন্তু এইভাবে কিছু আসনের জন্য একটি বড় দলের সাথে সমঝোতা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি পোষ্টের একপর্যায়ে উল্লেখ করেন “এই জিনিস হজম করে মরতেও পারবোনা আমি”। তিনি বলেন, অত্যন্ত সুকৌশলে সংসদ নির্বাচনের জন্য শতাধিক প্রার্থী নির্বাচন করে এখন হাতে গোণা কয়েকটি আসনের জন্য সমঝোতা করা হচ্ছে। এবং এর মাধ্যমে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন নিজেদের এমপি হওয়া নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন। এবং এমন সময়ে ঘোষণাটা দেওয়া হলো যাতে করে যারা বন্চিত হবেন তারা যেনো স্বতন্ত্র নির্বাচনও করতে না পারেন। তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সাথেই জোট করে বিএনপি ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া দল মাত্র ৩০টি আসনের জন্য সমঝোতা করছে এটা তিনি ভাবতেও পারেননা। আবার গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া দল আরেকটি দলের অধীনে জোট করবে এটাও মানা তাঁর পক্ষে সম্ভব না। তিনি আরও বলেন এই জোটের মাধ্যমে মূলত জুলাই আন্দোলনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব জামায়াতের ঘরে চলে যাবে। তিনি নিজের মনের আরও অনেক দুঃখ – কষ্টের কথা উল্লেখ করে পরিশেষে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা করেন এবং ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নিজে অংশ নিতে না পারার কথা বলেন।
