মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপ থাকা সত্বেও ভারত রাশিয়ান তেলের আমদানিতে কোনো রকম সমঝোতা করবে না এমনই দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫০০ শতাংশ ট্যারিফের হুমকি সত্ত্বেও জানুয়ারি ২০২৬-এ রাশিয়া থেকে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন ক্রুড অয়েল আমদানি করার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। গ্লোবাল ডেটা প্রোভাইডার ক্লপারের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
রাশিয়ান তেলের ছাড় এখনও $৮-১০ প্রতি ব্যারেল, যা মধ্যপ্রাচ্যের গ্রেডের তুলনায় অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এই আমদানি অব্যাহত রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ান তেল কেনা দেশগুলির ওপর ৫০০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপের বিলকে সমর্থন করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করে, তাহলে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরও কড়া ট্যারিফ আসবে। গত বছরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করেছে, যার ২৫ শতাংশ রাশিয়ান তেলের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু এসব সত্ত্বেও ভারত তার নীতিতে অটল রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে জ্বালানি নিরাপত্তা জাতীয় স্বার্থের অংশ, কোনো বহিরাগত চাপে তা পরিবর্তন হবে না।
ক্লপারের লিড রিসার্চ অ্যানালিস্ট সুমিত রিতোলিয়া বলেন, “জানুয়ারিতে রাশিয়ান ক্রুড আমদানি ১.১ থেকে ১.৩ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন হতে পারে।” ডিসেম্বরে আমদানি কমে ১.২ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমেছিল যা তিন বছরের সর্বনিম্ন। কারণ রোসনেফ্ট ও লুকোয়েলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু নতুন ইন্টারমিডিয়ারি কোম্পানি ও নন-স্যাঙ্কশনড সাপ্লায়ারদের মাধ্যমে সাপ্লাই চেইন পুনর্গঠিত হচ্ছে।
