খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ইচ্ছেকৃত অবহেলার অভিযোগ করে তার চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন করেন, ম্যাডামকে কি স্লো পয়জন করা হয়েছে? আমার উত্তর হচ্ছে, ‘মেথোট্রেক্সেট’ ছিল সেই ওষুধ, যা তার ফ্যাটি লিভার ডিজিজকে দ্রুত লিভার সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে এটি তার লিভারের জন্য ধীরে ধীরে বিষের মতো কাজ করেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এই ধরনের অবহেলা, লিভার ফাংশনের দ্রুত অবনতি তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটি ‘উইলফুল নেগলিজেন্স’ বা ইচ্ছাকৃত অবহেলা। এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ। এটি তাকে হত্যা করার সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনার অংশ ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
লেখক ও চিন্তক ফাহাম আব্দুস সালাম বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের পুরোটাই স্যাক্রিফাইস। অল্প বয়সে উনি স্বামী হারিয়েছেন, সন্তান হারিয়েছেন। জীবনের শেষ বছরগুলো তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। অসহনীয় অত্যাচারের মধ্যে দিয়ে গেছেন। শেষ অত্যাচারটা ছিল ওনাকে বিনা চিকিৎসায় আওয়ামী লীগের একটি ফ্যাসিস্ট রেজিম তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। আমি মনে করি, বিএনপির অনেক নেতা অনেক স্যাক্রিফাইস করেছেন, কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ছিল সব থেকে বেশি। এই জায়গায়টায় উনি অনন্য।’
বিশ্বের গণতান্ত্রিক ইতিহাস বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া অসম্পূর্ণ মন্তব্য করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসু দেব ধর বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সংগ্রামে, বাংলাদেশের অধিকারের সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়াকে রাস্তায় দেখেছি। যে মৃত্যু মানুষকে মৃত্যুঞ্জয়ী এবং আরও প্রতিবাদী হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়, তারা ইতিহাসে স্থান করে নেন, বেগম খালেদা জিয়া এমনই। আজকে আমরা এক নতুন পরিস্থিতিতে, আমি একটা কথা শুধু নিবেদন করতে চাই- এবারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগটা যেন আমরা হাতছাড়া না করি। এটাই হবে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মাননা। বাংলাদেশের একটি নাগরিকও যদি ধর্ম বা অন্য কোনো কারণে নিগৃহীত না হয়, এই নতুন গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মাধ্যমে যদি তা নিশ্চিত হয়, আমি মনে করি, সেটাই হবে মরহুমার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন।”
শোকসভা আয়োজনের আহ্বায়ক ড. মাহবুব উল্ল্যাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে বলেন, ‘মানুষ বেগম খালেদা জিয়াকে অনন্তকাল স্মরণ করবে। কারণ, দেশের জন্য তার ত্যাগ ও নিষ্ঠা অপরিসীম। তিনি এদেশের মানুষ, গাছ, লতাপাতা ও পানি ভালোবাসতেন। বলতেন, দেশের বাইরে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হলেও তার আদর্শ চির অম্লান হোক। আল্লাহ আমাদের নেত্রীকে বেহেশত দান করুন।’
শোকসভার সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম৷ বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সাধারণ রাজনীতিবিদ ছিলেন না। ছিলেন রাজনৈতিক আদর্শ। ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন অসাধারণ দৃঢ়চেতা। কঠিন সময়েও চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ধ্বংস নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমার বিবেচনায় তিনি বিচক্ষণ। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি দেওয়ার দাবি জানাই।’
শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, গবেষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীর, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়, আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন।
