শনিবার ৩১ জানুয়ারি বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকায় বিসিক শিল্পপার্কে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির পদ অলংকৃত করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমান।বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন জনান তারেক রহমান। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রিয় নেতার উপস্থিতিতে মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানে মুখরিত হয় জনসভাস্থল। ১৯ বছরেরও বেশি সময় পরে জনাব তারেক রহমান সিরাজগঞ্জে আসেন।
শনিবার সকাল ১০টা থেকেই জনসভাস্থলে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন। একইসাথে জনাব তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য এবং তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন অগুনতি সাধারণ জনগণ। জনাব তারেক রহমান পৌঁছানোর আগেই সমাবেশস্থলটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ধানের শীষের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো মাঠ। বিকাল পৌনে ৩টার দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভা শুরু হয়। এ জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতায় বলেছেন, আমরা সবাই বিএনপি করি। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমাদের কাছে জাত-পাত মুখ্য নয়, ধর্মটা মুখ্য নয়, আমাদের কাছে মুখ্য হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। কাজেই আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে চাই। আমরা যদি দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি। তাহলেই একমাত্র সম্ভব দেশ ও জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধান করা।

তিনি বলেন, আজ সিরাজগঞ্জের মেরি ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সারাজীবনের জন্য নিজের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। এ রকম হাজারও মেরি বাংলাদেশে রয়েছে। যে মানুষগুলো গত ১৬-১৭ বছর যাবত প্রতিবাদ করেছে, কীসের প্রতিবাদ? আপনাদের যে রাজনৈতিক অধিকার সেই যে গত ৫ আগস্ট পালিয়ে গিয়েছে তারা আপনাদের রাজনৈতিক অধিকার, কথা বলার অধিকার, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়েই মেরীসহ আমাদের হাজার হাজার ভাই-বোন নির্যাতিত হয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, এমনকি বহু মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে। এই মানুষগুলোর আত্মত্যাগের প্রতিদান দিতে হলে শুধু মিটিং করলে হবে না। তাদের প্রতিবাদ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, তাদের প্রতিবাদ ছিল সারা বাংলাদেশের মানুষের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। এই অধিকারকে ফিরিয়ে আনতে হলে অবশ্যেই ১২ তারিখে আপনাদের সোচ্চার হতে হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান আরও বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চায় কোন রাজনৈতিক দল দেশ ও জনগণের জন্য কী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিএনপি সেই পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপিই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যার অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশকে সামনের দিকে পরিচালিত করার। বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার মতো কোনো রাজনৈতিক দল নেই।
অন্যানের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, পাবনা-৪ হাবিবুর রহমান হাবিব, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী এম আকবর আলী, পাবনা-৫ আসনের প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী এমএ মুহিত, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী সেলিম রেজা, পাবনা-১ আসনের প্রার্থী শামসুর রহমান, পাবনা-২ আসনের প্রার্থী সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ আসনের প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ।
