চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার ঘটনায় চলমান আন্দোলনের বিষয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আজ বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে সংশ্লিষ্টদের সাথে একট গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর বলেছেন, ‘দেশের স্বার্থে চুক্তি সম্পন্ন হবে এবং বিশৃঙ্খলা দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।’

আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টা চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে নেমে বন্দরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সকাল পৌনে ১১টার দিকে উপদেষ্টা বন্দর ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে কয়েক শ আন্দোলনকারী তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরেন। প্রায় ১৫ মিনিট উপদেষ্টার গাড়ি আটকে থাকে। পরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় তিনি বন্দর ভবনে প্রবেশ করেন।বিক্ষোভের মুখে একপর্যায়ে উপদেষ্টা গাড়ি থেকে নেমে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলেন। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন এ সময় অভিযোগ করেন, বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান গত দেড় বছরে শ্রমিকদের নানাভাবে হয়রানি করেছেন। শ্রমিকরা অবিলম্বে চেয়ারম্যানের অপসারণ এবং এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবি জানান। জবাবে মাননীয় উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আপনাদের সাথে ওয়ান-টু-ওয়ান কথা বলব। আপনাদের কথা শোনা হবে, তবে আপনাদেরও আমার কথা শুনতে হবে।’ পরে উপদেষ্টার আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা শান্ত হন এবং তিনি বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন।
বৈঠক শেষে নৌপরিবহন উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে জানান, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে বিদেশি বিনিয়োগ ও চুক্তি প্রয়োজনীয়। তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী চুক্তি সম্পন্ন হবে এবং এক্ষেত্রে কোনো ধরনের নাশকতা বা অহেতুক বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। সরকার বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
মাননীয় উপদেষ্টার ঘোষণার পর চলমান অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার স্থগিত করা হয়েছে। আন্দোলনের প্রধান নেতা ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা উপদেষ্টাকে দুই দিনের সময় দিয়েছি। তাই আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার আমাদের ২৪ ঘন্টার আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমাদের দাবী না মানলে ফের আন্দোলনে যাবো।
