নৃত্যে অবদান রাখায় এ বছর একুশে পদক পাচ্ছেন অর্থী আহমেদ। একুশে পদকের মতো পুরস্কারের তালিকায় সাধারণত জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের নাম বেশি দেখা যায়। নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ বয়সে তরুণ। জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের উপেক্ষা করে তাঁকে একুশে পদক দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নৃত্যশিল্পীরা। গতকাল ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে নৃত্যশিল্পীদের একাংশ সংবাদ সম্মেলন করে একুশে পদকের মনোনয়নের প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী আমানুল হক, নৃত্য পরিচালক তামান্না রহমান, ফারহানা চৌধুরী বেবি, ওয়াসেক রহমান, আনিসুল ইসলাম হিরুসহ অনেকে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পীদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবি। বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ‘এই বছর নৃত্যকলায় যে শিল্পীকে একুশে পদক প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেই মনোনয়ন নিয়ে নৃত্যাঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। একুশে পদকের জন্য যে নামটি ঘোষিত হয়েছে, তাঁর বয়স, অভিজ্ঞতার পরিসর, বাংলাদেশে নৃত্যচর্চা ও নৃত্যশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি অবদান—এই বিষয়গুলো নিয়ে নৃত্যাঙ্গনের একটি বড় অংশের মধ্যে প্রশ্ন ও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত শিল্পীর নৃত্যচর্চা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের নৃত্যভূমিতে কী ধরনের মৌলিক, দীর্ঘস্থায়ী ও জাতীয়ভাবে প্রভাবশালী অবদান রাখা হয়েছে, যা একুশে পদকের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানের যোগ্যতা অর্জন করে, তা নিয়ে স্পষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।’
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশে অসংখ্য সিনিয়র নৃত্যশিল্পী রয়েছেন, যাঁরা কয়েক দশক ধরে নৃত্যচর্চা, নৃত্যশিক্ষা, গবেষণা, মঞ্চায়ন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। তাঁদের আজীবন অবদান থাকা সত্ত্বেও উপেক্ষিত হওয়া নৃত্যাঙ্গনের জন্য গভীরভাবে বেদনাদায়ক ও হতাশাজনক।’
সংবাদ সম্মেলনে নৃত্যশিল্পীদের পক্ষ থেকে চারটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—একুশে পদক প্রদানের নীতিমালা অনুযায়ী নৃত্যকলায় পদক প্রদান করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা; নৃত্যকলায় একুশে পদকের মনোনয়নের প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা; নৃত্যাঙ্গনের অভিজ্ঞ, প্রবীণ ও স্বীকৃত ব্যক্তিদের মতামত গ্রহণ করা এবং একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নপদ্ধতি অনুসরণ করা।
