পাকিস্তানের জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড়দের জন্য এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরটা ছিল অত্যন্ত লজ্জার। দলের অধিনায়ক আম্মাদ শাকিল বাট লাহোর বিমানবন্দরে ফিরে এসে ফেটে পড়েছেন পাকিস্তান হকি ফেডারেশন (PHF)-এর বিরুদ্ধে। তিনি খোলাখুলি বলেছেন, খেলোয়াড়দের ম্যাচের আগে রান্নাঘর পরিষ্কার করতে হয়েছে, বাসন মাজতে হয়েছে, এমনকি টয়লেট ঝাড়তে হয়েছে। “খেলোয়াড়রা সকালে উঠে রান্নাঘর পরিষ্কার করে, বাসন মাজে দু’-তিন ঘণ্টা, তারপর মাঠে নামে।এরপর কী খেলা আশা করা যায়?” এই কথা বলতে গিয়ে আম্মাদ বাটের গলা কাঁপছিল রাগে।এই অভিযোগের পিছনে রয়েছে PHF-এর চরম অব্যবস্থাপনা এবং অর্থের অভাব। FIH প্রো লিগের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া দলের হোটেল বুকিংয়ের টাকা দেওয়া হয়নি বলে বাতিল হয়ে যায়। খেলোয়াড়রা সিডনি বিমানবন্দরে ১৩-১৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়, লাগেজ কাঁধে নিয়ে রাস্তায় ঘুরতে হয়। পরে কোনোমতে একটা এয়ারবিএনবি-তে থাকার ব্যবস্থা হয়।
কিন্তু সেটাও মাত্র ১০ দিনের জন্য ১৩ দিনের সফরে মাঝপথে আবার সস্তা, নিম্নমানের জায়গায় সরে যেতে হয়। খেলোয়াড়দের নিজেরাই রান্না করতে হয়েছে, খাবার তৈরি করতে হয়েছে, কাপড় ধুতে হয়েছে, ঘর পরিষ্কার করতে হয়েছে। আম্মাদ বলেছেন, ম্যানেজমেন্ট খেলোয়াড়দের মাত্র ১১৫ ডলার দিয়ে তিনবেলা খাবার চালানোর কথা বলেছে, যা অসম্ভব।এই ঘটনা পাকিস্তানের জাতীয় খেলা হকির দুর্দশার একটা জ্বলজ্বলে ছবি তুলে ধরেছে। একসময় যে দেশ হকিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ছিল, অলিম্পিকে সোনা জিতেছে, আজ সেই খেলোয়াড়রা হোটেলে বাসন মাজছে! আম্মাদ বাট স্পষ্ট বলেছেন, “এই ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আর কাজ করা যাবে না। তারা মিথ্যা বলে চলেছে, খেলোয়াড়দের মানসিক যন্ত্রণা দিচ্ছে।” তিনি দাবি করেছেন, খেলোয়াড়দের গত ছয় মাস ধরে বেতন দেওয়া হয়নি।
PHF-এর বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ব্যবস্থা চেয়েছেন এবং বিদেশি কোচ নিয়োগের দাবি তুলেছেন।এধরণের অব্যবস্থাপনার জন্য দলের পারফরম্যান্সও খারাপ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফরে তারা ভালো ফল করতে পারেনি। আম্মাদ বলেছেন, খেলোয়াড়রা “মানসিক রোগী” হয়ে গেছে এই অপমান সহ্য করে।
অব্যবস্থা নিয়ে মুখ খুললে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ বাটের। তিনি বলেছেন, ‘‘ফেডারেশন কর্তারা আমাদের আগে থেকে শাসিয়ে রেখেছেন। অব্যবস্থা নিয়ে কেউ মুখ খুললে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সফরের অব্যবস্থা নিয়ে মুখ না খুলে পারলাম না। উন্নতি করতে আমাদের বিদেশি কোচ দরকার। আমাদের দল খারাপ নয়। দলের ভারসাম্যও ভাল। আমাদের শুধু দরকার ভাল বিদেশি কোচ এবং ভাল কর্তা।’’
হকি অধিনায়কের অভিযোগ নিয়ে পাকিস্তানের ক্রীড়ামহলে হইচই শুরু হয়েছে। তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শরিফ। হকি দলের অধিনায়কের অভিযোগ শুনে বিস্মিত পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ডের (পিএসবি) কর্তারা। পিএসবির ডিরেক্টর জেনারেল নুর সাবাহ বলেছেন, ‘‘যে ধরনের অভিযোগ উঠছে, তা মারাত্মক। আমরা বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করছি। প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট পাঠানো হবে।’’ উল্লেখ্য পাক প্রধানমন্ত্রী ফেডারেশনের প্যাট্রন ইন চিফ।
