যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ— হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রস্তাবটি তোলেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান। ওহাইয়ো থেকে নির্বাচিত এ আইনপ্রণেতা তাঁর প্রস্তাবে বলেছেন, হত্যাযজ্ঞে সহায়তা করার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তিনি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
প্রস্তাবটি এখন কংগ্রেসের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটিতে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। এতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর বৈষম্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি একাত্তরে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করেছিল—এ অভিযোগ তুলে তাদের বিচারের দাবিও জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়, সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের ‘জেনোসাইড’ প্রতিবেদন এবং ঢাকায় মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাডের পাঠানো ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ প্রমাণ করে, পাকিস্তানের অপারেশন সার্চলাইট ছিল একটি পরিকল্পিত গণহত্যা।
প্রস্তাব তুলে ধরার সময় ল্যান্ডসম্যান বলেন, “পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ১৯৭১ সালের অভিযান জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যা। এ অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আগেই গণহত্যার তকমা দেওয়া উচিত ছিল।”
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাপিটল হিলে একটি শুনানি হয়। সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিসহ একাত্তরের গণহত্যার কথা উঠে আসে। ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল ‘হিন্দু অ্যাকশন’ নামের একটি সংস্থা। সেই অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় মার্কিন পার্লামেন্টে নতুন প্রস্তাব উঠল বলে জানান নিউ ইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার দীলিপ নাথ। তিনি শনিবার বাংলাদেশি অনলাইন গণমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একাত্তরের গণহত্যার জন্য দায়ী জামায়াতে ইসলামের উত্থান ঘটেছে জুলাই আন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহম্মদ ইউনূসের আস্কারায় জামায়াত আবারো মানবতাবিরোধী জঘন্য তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। এমনকি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ‘ভালো মানুষ’ সাজাতে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের নামে তামাশাও করেছেন। এহেন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। আশা করছি কংগ্রেসে প্রস্তাবটি পাস হলে একাত্তরের ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত জামায়াতে ইসলামীকে যুক্তরাষ্ট্র আবারো নিষিদ্ধ করবে।”
