মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৪ : ১ প্যারাগুয়ে
ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবলের অসাধারণ প্রদর্শনী করে ৪-১ গোলের বড় জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এ দুর্দান্ত সূচনা করেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।ফোলারিন বালোগানের জোড়া গোল, একটি আত্মঘাতী গোল এবং শেষ মুহূর্তে জিওভানি রেইনার শৈল্পিক ফিনিশিংয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানান দিয়েছে তাদেরকে এবারের টুর্নামেন্টে মোটেও অগ্রাহ্য করা যাবেনা।
ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণ গড়ে তুলে ওয়েস্টন ম্যাককেনি প্যারাগুয়ের বক্সে ঢুকে পড়েন। ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিংয়ের পর ম্যাককেনির কাটব্যাক ঠেকাতে গিয়ে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া। এর মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম আত্মঘাতী গোলের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়ে বসেন তিনি।
গোলের পরও আক্রমণ সমানে চালিয়ে গিয়েছে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে ফোলারিন বালোগান প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে দিলেও ভিএআরের সহায়তায় অফসাইডের জন্য গোলটি বাতিল করেন রেফারি। যদিও গোল বাতিলের হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি স্বাগতিকদের। মাত্র তিন মিনিট পরই বাম প্রান্ত থেকে পুলিসিকের বাড়ানো পাস প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বালোগান এবং ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও চলতে থাকে মার্কিন আক্রমণ। অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে মালিক টিলম্যানের নিখুঁত থ্রু-পাস ধরে বক্সে ঢুকে শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন বালোগান।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। ৫০ মিনিটে নাটকীয় ঘটনা ঘটে। মিগুয়েল আলমিরনকে ফাউল করেছেন মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক টিম রিমকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো স্পর্শ ছাড়াই পড়ে গিয়েছিলেন আলমিরন। ফলে রিমের কার্ড বাতিল করে উল্টো অভিনয়ের দায়ে আলমিরনকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
অবশেষে ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ব্যবধান কিছুটা কমাতে সক্ষম হয় প্যারাগুয়ে। গোলরক্ষকের লম্বা বল থেকে আক্রমণ শুরু করে আলমিরন এনসিসোকে পাস দেন। এনসিসোর বাড়ানো বল ধরে বদলি খেলোয়াড় মাউরিসিও ডান কোণ দিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখান। কিন্তু সেই আশা বাস্তবায়িত হয়নি। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে আবারও আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্র। অতিরিক্ত সময়ে ফ্রিম্যানের পাস থেকে বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন জিওভানি রেইনা। এরপর দারুণ এক বাঁকানো শটে প্যারাগুয়ের জালে বল জড়িয়ে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি এবং রেইনার শেষ মুহূর্তের গোলের সুবাদে ৪-১ ব্যবধানে বড় ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
