চট্টগ্রাম : ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পরও বিভিন্ন খাতে সেই অপশক্তির দোসররা নতুন রূপে সক্রিয় হওয়ার অপচেষ্টা চালিয় বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বন্দর নিয়ে চলছে নানা ষড়যন্ত্র। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃৎস্পন্দন এবং এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। এই বন্দরকে ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্র বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা সফল হতে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিশেষ সুবিধার ভিত্তিতে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে তারা শ্রম অধিদপ্তরসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিকদের নামে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সহিংসতার যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, চমেক হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করে সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। জনসেবার খাতগুলোকে সিন্ডিকেটমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ও জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হলেও, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাতে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার কোনো অপচেষ্টা চট্টগ্রামবাসী মেনে নেবে না। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে স্বার্থকেন্দ্রিক শ্রমিক নেতৃত্বের বিকাশ শ্রমিক আন্দোলনের জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে। কিছু অসৎ শ্রমিক নেতার সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর যোগসাজশের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার নামে ব্যক্তিস্বার্থ ও অবৈধ সুবিধা অর্জনের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। নগরীতে মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি শ্রমিক রাজনীতির আড়ালে এসব অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের দোসররা নিজেদের স্বার্থে অবৈধ ব্যবসা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে জনগণের ক্ষতি করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, ফেডারেশনের মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মো. নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স. ম. শামীম, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক এবং ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলমসহ নেতৃবৃন্দ
