মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬

চট্টগ্রামে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫’শ টাকায় ভাড়ায় লোক এনে ডিডিএনে হামলা চালায় : র‍্যাব৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবার কোম্পানি ডিজিটাল ডটনেটে (ডিডিএন) দুই কোটি টাকা এককালীন এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবি মেনে না নেওয়ায় চকবাজার, বাকলিয়া, বহদ্দারহাট ও রাউজান উপজেলা থেকে ৫’শ টাকায় লোকজন ভাড়া করে এনে ডেভিড ইমনে’র নির্দেশে হামলার ঘটনায় মো. মহিউদ্দিন, মো. তুহিন (২২), আকবর হোসেন (৩৮), আব্দুল মুমিন (৩০), রোহেন মিয়া ওরফে মাইকেল (৩১), মাসাদ মিয়া (২৭), দিদার মিয়া (২২), সানজাত হাসান (১৮), সৈরত হোসেন (১৮) ও সাইফুদ্দিন (৩২) নামের দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন ( র‍্যাব-৭)। এসময় তাদের কাছ থেকে হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত একটি অ্যাম্বুলেন্স ও দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতের মধ্যে রোহেন মিয়া হামলাকারীদের সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব-৭।

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার দুদিন আগে ডেভিড ইমন ডিডিএন মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না পেয়ে ডেভিড ইমনের নির্দেশে এ হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া মাইকেল, সানি ও রাজু নামে তিনজন বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সংগ্রহ করেছিলেন এই হামলার ঘটনা ঘটানোর জন্য। হামলাকারীরা প্রথমে বহদ্দারহাট এলাকায় জড়ো হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে অটোরিকশা নিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় যায়। তিনি আরও বলেন, তাদের একটি দলকে এক্সেস রোডে রাখা হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজর রাখার জন্য। একটি দল ডিডিএনে গিয়েছিল হামলা করতে। আর কয়েকজন ভবনের নিচে এবং আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের বেশে অবস্থান করেছিল।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, ২০ জনের একটি দল ডিডিএন অফিসে প্রবেশ করে এবং ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে সিসিটিভি ভিডিও দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনকে অন্যদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ধরা হয়।মাইকেলকে আটকের পর তার মোবাইলে ঘটনার দিন সাড়ে ১০টার দিকে লোকজনকে সংগঠিত করে ব্রিফিং করার একটি ভিডিও ক্লিপস পায় র‌্যাব। যেখানে ব্রিফিং শুনে লোকগুলো উচ্ছ্বসিত হয়ে ভাঙচুর করতে যেতে দেখা যায়। ডেভিড ইমন ও রায়হান সামনে না এসে তাদের গ্রুপের অন্য কারো মাধ্যমে মাইকেল, সানি ও রাজুকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন লোকজন জড়ো করার জন্য। সে অনুযায়ী তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন জড়ো করেন এবং হামলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেককে ৫’শ টাকা করে দেওয়া হয় বলে জানান কর্নেল হাফিজুর রহমান। ঘটনার বিষয়ে চকবাজার থানার ওসি নূর হোসেন মামুন বলেন,

হামলাকারীদের আটজনের একটি দল অ্যাম্বুলেন্সে করে রাউজান থেকে চট্টগ্রামে এসেছিলো। শনিবার রাতে রাউজানে অভিযান চালিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি জব্দ করার পাশাপাশি চালক মো. মহিউদ্দিনকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ১৩ জুলাই দুপুরে ডিডিএন অফিসে হামলা–ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কোম্পানির মালিক পক্ষ অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের অনুসারী বিদেশে পালিয়ে থাকা মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মাহমুদের কাছে। সেই টাকা না দেওয়ার কারণেই হামলা হয়। বিষয়টি নিয়ে ইমনের সঙ্গে কোম্পানির মালিকের টেলিফোন আলাপের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে চকবাজার থানায় মামলা করেন ডিডিএনের এক কর্মকর্তা।

মামলার সূত্রে জানা যায় , চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৩ জুলাই দুপুরে ডিডিএন অফিসে গিয়ে ভাঙচুর শুরু করে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী। কম্পিউটার, ল্যাপটপ, আসবাব, গ্লাস ভাঙচুর করে অন্তত ১৫ লাখ টাকা ক্ষতি করে তারা। তিনটি মোবাইল ফোন, ড্রয়ার থেকে নগদ ৪৭ হাজার এবং কোম্পানির পরিচালকের কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকাভর্তি একটি ব্যাগও তারা নিয়ে যায়।

গ্রেপ্তার ৯ : ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সটি জব্দ করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সের চালককে। হামলার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করা আরো ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব–৭। তাদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত চারটি দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে হামলার সময় ব্যবহৃত চারটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এ ঘটনায় ইতোপূর্বে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই নিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ২২ জনে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে অনেকের নামে মামলা আছে। শনিবার যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত সকল সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

একটি পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল মানেই একটি নিরাপদ হাসপাতাল : চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম : নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত হাসপাতাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্য এপিক হেলথ কেয়ার লিমিটেড...

দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়াতে হবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, জাতিকে সুশিক্ষিত করাই আমাদের দায়িত্ব। তাই যত ট্রল বা অপবাদই আসুক না কেন, আমাদের সঠিক...

পুলিশের নাম ব্যবহার করে টোকেন বিক্রি করা যাবে না, করলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে সিএমপি

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীতে যানজট নিরসন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে পাঁচটি নির্দেশনা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।শুক্রবার ( ১৭ জুলাই )...

টানা তিন দিন বন্যার্তদের পাশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমিতি সংস্থা (ওডিএমএস)

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়ে বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ জনপদে নেমে আসে দুর্ভোগে, এমন সংকটের মুহূর্তে মানবিক দায়িত্ববোধকে সামনে রেখে বন্যাদুর্গত...

চট্টগ্রামে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার্জ শুনানী আগামী ২১শে জুলাই

চট্টগ্রাম :  চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন জামালখান এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু কন্যা মারজান হক বর্ষা'র ধর্ষণ, খুন ও লাশ গোপন করা হত্যা মামলার...

আমরা সবাইকে নিয়ে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধী দুইশত জন মানুষের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করেছেন। শুধু বরাদ্দ অনুমোদনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, পূর্বনির্ধারিত...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত