শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র’র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদে সয়লাব, তীরের মুখে ঈমাম হোসেন

কে এম রাজীব

চট্টগ্রামে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে শিল্পীদের টাকা আত্মসাতসহ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক গবেষণা সম্পাদক, আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বিশেষ সুবিধাভোগী বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক মো: সফির হোসাইন ওরফে ইলন ও বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার মো. ঈমাম হোসেনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়ে সয়লাবে পরিনত হয়েছে। যার ফলে তীরের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মো. ঈমাম হোসেন।

সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে অনিয়ম,জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহা করে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্নসাৎ করায় সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে কেন্দ্রের পুরো সম্প্রচার ব্যবস্থা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলব, মন্ত্রণালয়ের তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগ এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ থাকার পরও বহাল তবিয়তে থেকে কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. ঈমাম হোসাইন এবং নির্বাহী প্রযোজক মো. সফির হোসাইন (ওরফে ইলন সফির) এর প্রত্যক্ষ মদদে গঠিত ‘হোসাইন সিন্ডিকেট’ এর কবলে পড়ে স্থবির হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচার মাধ্যমটি। যার ফলে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক মো: সফির হোসাইন ওরফে ইলন সফির এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো: ঈমাম হোসাইন এবং নির্বাহী প্রযোজক মো: সফির হোসাইনের নেতৃত্বে তাদের সদস্যরা জুলাই অভ্যুত্থান অনুষ্ঠানের নামে ভূয়া বাজেট ও বিল ভাউচারের মাধ্যমে চরমভাবে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ঈমাম হোসাইনের যোগসাজসে সফির হোসাইন নির্বাহী প্রযোজক হওয়া সত্ত্বেও সরকারের আইন লঙ্ঘন করে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার সেজে লক্ষ-লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করাও অভিযোগ উঠে।

সূত্রে জানা যায় , “ইতিহাসের এই দিনে” শিরোনামে ২ মিনিটের একটি গ্রাফিক্স কার্ড ২৯ বার পুনঃপ্রচার দেখিয়ে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। গ্রাফিক্স কার্ড বারবার প্রচার করা হলেও ভ্রমণের নামে চার মাসে উত্তোলন করেছেন ৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা। সম্প্রতি তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া গেলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা রোমানা শারমিনকে দিনের পর দিন ছুটি দেখিয়ে চার মাসে শিল্পী সম্মানীর নামে ৬০ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৬ অনৈতিকভাবে উত্তোলনের ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে। একাধিক শিল্পী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিন্ডিকেট শিল্পী সম্মানীর লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনুষ্ঠান পুনঃপ্রচার দেখিয়ে পুননির্মাণের নামে ভুয়া বাজেট তুলছে দুর্নীতিবাজ চক্র। ভালো উপস্থাপকদের ফ্লোর দেওয়া হয় না অথচ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অনভিজ্ঞদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন জিএম ঈমাম হোসাইন। অভিযোগে আরও জানা যায়, লেদার টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, ঢাকা শাখার ছাত্রলীগের সাবেক গবেষণা সম্পাদক মো. সফির হোসাইন ২০১৫ সালে ‘প্রযোজক (গ্রেড-২)’ হিসেবে বিটিভিতে যোগদান করেন।যোগদানের পর থেকেই তিনি শিল্পী, কলাকুশলী ও সহকর্মীদের সঙ্গে ছলচাতুরি, অসদাচরণ এবং দুর্নীতিতে জড়াতে থাকেন। সুযোগ বুঝে তৎকালীন প্রযোজক ও এইচডিটিভির পিডি মাহফুজা আক্তারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে নামে বেনামে কোটি টাকা উত্তোলনে অংশ নেন। এসব অর্থ দিয়ে সফির হোসাইন চাকরির তিন বছরের মাথায় গাজীপুরে ৬ একর জমি, দামি গাড়ি এবং রাজধানীর হাতিরঝিলে ২৬০০ বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। ২০২২ সালে তাঁকে নির্বাহী প্রযোজক পদে পদোন্নতি দিয়ে ঢাকায় পদায়ন করলেও যোগদান না করে গোপনে চট্টগ্রামে থেকে যান। মাহফুজা আক্তারের সহযোগিতায় ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ৫৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এ কারণে ২০২৩ সালের ২ মে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয় এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে ব্যবস্থা নেয়। মাহফুজা আক্তারের ২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সফির হোসাইনকে ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দুদক তলব করে। জালিয়াতির মাধ্যমে শিল্পীদের ৪ কোটি টাকা আত্মসাতসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলেও বহাল তবিয়তে আছেন মো. সফির হোসাইন ওরফে ইলন সফির। ফলে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র বর্তমানে লুটপাটের উন্মুক্ত অঙ্গনে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (চ. দা.) মো. ঈমাম হোসাইন এবং নির্বাহী প্রযোজক মো. সফির হোসাইনের নেতৃত্বে ‘হোসাইন সিন্ডিকেট’-এর সদস্যরা জুলাই অভ্যুত্থান অনুষ্ঠানের নামে ভুয়া বাজেট ও বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ব্যাপক লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ঈমাম হোসাইনের যোগসাজশে নির্বাহী প্রযোজক হয়েও সরকারের আইন ভঙ্গ করে ভুয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার সেজে বিপুল অঙ্কের টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করছেন সফির হোসাইন।

বিটিভির প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জালিয়াতি, ছলচাতুরি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিল্পীদের কোটি টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিটিভির মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এবিষয়ে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদস্ত কমিটির আহবায় অনুষ্ঠান ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক মো. আজগর আলী।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মো. সফির হোসাইন তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার (চ. দা.) মাহফুজা আক্তারের সঙ্গে আঁতাত করে শুধু চট্টগ্রাম কেন্দ্রেই ভুয়া বাজেট ও ভাউচারের মাধ্যমে ১ কোটি ২৩ লাখ ১২ হাজার সাতশত ২২ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর পূর্বের কর্মকাণ্ডেও নানা ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তের পরও প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে না পাঠাতে গাজীপুর এলাকার এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার নির্দেশে ফাইল গায়েব রাখা হয়। পরে প্রধান কার্যালয়ে তোলপাড় শুরু হলে মহাপরিচালক প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। তবে বিটিভির ৩৪ জন শীর্ষ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতিবাজ ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের রক্ষায় সক্রিয় রয়েছেন। অন্যদিকে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রের একাধিক সূত্রের দাবি, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলেও সাবেক জিএম মাহফুজা আক্তারের মতোই মো. ঈমাম হোসাইন অনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে সফির হোসাইনকে বিশেষভাবে কাছে টেনে নেন। তাঁর বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অসদাচরণের বহু অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকাকালে ভুয়া শিল্পীদের মাধ্যমে কোটি টাকা বাজেট উত্তোলন, ৪১টি মঞ্চনাটক পুনঃপ্রচার দেখিয়ে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা করে মোট ৪৭,৯৭,০০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ বহু দুর্নীতির সাথে ইমাম হোসাইন জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজেকে বিএনপি প্রমাণ করতে মরিয়া অন্য দিকে নিজের অপকর্ম ঢাকতে জামায়াত পন্থীদের দিয়ে যা তা অনুষ্ঠান প্রচার করে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে তোতলা সাংবাদিকের অনুষ্ঠানও শততম পর্ব শেষ করেছে। আর বলে বেড়ায় বিএনপিতে সব মূর্খ, সাংবাদিক নাই অথচ বিএনপি লোকদের অনুষ্ঠানে কোন সহযোগিতা করে না ইমাম গং। লোক দেখানো কিছু নাম সর্বস্ব অনুষ্ঠান বিএনপির নেতাদের ডাকে ধূর্ত ইমাম হোসাইন। নিজের অপকর্ম ঢাকতে সব সময় কূটকৌশলে ব্যস্ত পলাতক ওবায়দুল কাদেরের ভাগিনা ঈমাম হোসাইন। সম্প্রতি ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন একটি নির্ধারিত টকশোতে অংশ নিতে গিয়ে সেখানে চরম অব্যবস্থাপনার মুখে পড়েন। পরে তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে অবহিত করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে। প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের এই জিএম ইমাম হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পূর্বনির্ধারিত টকশোতে অংশ নিতে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তিনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তা একটি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তি ও বিব্রতকর।

সূত্রে আরও জানা যায় , আওয়ামী লীগের আশীর্বাাদে চাকরি নিয়েছেন মো. ঈমাম হোসাইন। সেই সুবাদে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পিএস আব্দুল মতিনসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি আওয়ামী লীগকে তোষামোদ করেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করে নতুন প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় সিনিয়র কর্মকর্তাদের উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্ব দখল করেন। সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী কোনো সিনিয়র কর্মকর্তাকে এড়িয়ে “চলতি দায়িত্ব” দেওয়া যায় না, তবুও তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এ পদে বহাল রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের পরিচয় পরিবর্তন করে জামায়াতের শেল্টারে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বোকা বানাচ্ছে। ঢাকা কেন্দ্রের জিএম পদ ভাগিয়ে নিতে নিজেকে বড় জিয়া প্রেমি সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন তিনি। বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে লিখছেন কবিতা, পত্রিকায় লিখছেন কলামও। চাকরি বিধি অনুযায়ী ছয় মাসের বেশি চলতি দায়িত্বে থাকার নিয়ম না থাকলেও ঈমাম হোসাইন দির্ঘদিন ধরে মাসে মাসে অবৈধভাবে দায়িত্বভাতা ও বেতন ভোগ করছেন। বিটিভিতে ২০০৯ সালে চাকুরী নেওয়ার পর তিনি তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল ছবি ও স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে নিজেকে ‘জাসদ’ নেতা হিসেবে পরিচিত করতে শুরু করেন এবং রাজনৈতিকভাবে কেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এ আচরণ দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, ফলে শিল্পী, কলাকুশলী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বর্তমানে সরকার বিরোধী শক্তি কে নিয়ে বিটিভি পরিচালনা করতেছে। রাষ্ট্রীয় টাকা লুটপাটে ব্যস্ত সময় পার করছে ঈমাম গং। নিন্মমানের অনুষ্ঠান প্রচার করে চলছে ধূর্ত জিএম ঈমাম।

অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম (চ.দা.) ঈমাম হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি, তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ নিয়ে প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত তথ্য ও পত্রিকার নিবন্ধন, নিয়োগপত্র নিয়ে তার দপ্তরের হাজির হতে বলেন। পরে এসব কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে প্রতিবেদককে তথ্য প্রদান করা হবে বলে জানান। এমন কি পাশাপাশি মামলার হুমকি দিয়ে থাকেন। ঈমাম হোসাইন আরও বলেন, এর আগে প্রকাশিত সংবাদগুলোর বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে প্রেস কাউন্সিল, জাতীয় প্রেসক্লাব, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও পেশাজীবী সাংবাদিক সংগঠনে প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন এবং আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। নথিপত্র নিয়ে বিটিভি কার্যালয়ে গেলে তথ্য-প্রমাণক দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে এসব বিষয়ে নির্বাহী প্রযোজক মো. সফির হোসাইন (ওরফে ইলন সফির)র সাথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি জিএম ঈমাম হোসাইনের মতই একই বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগের সরাসরি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো প্রতিবেদকের কাছে পত্রিকার বৈধ নিবন্ধন, নিয়োগপত্র ও আয়কর (ট্যাক্স) ফাইলের অনুলিপি দাবি করেন নির্বাহী প্রযোজক মো. সফির হোসাইন।

জানামতে কোনো সংবাদপত্রের নিবন্ধন বা প্রতিবেদকের পেশাগত বৈধতা যাচাইয়ের এখতিয়ার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি)।সরকারি কোনো কর্মকর্তা নিজ স্বার্থসংশ্লিষ্ট তদন্ত এড়াতে বিচারকের ভূমিকা নিয়ে এ ধরনের নথিপত্র তলব করতে পারেন না, যা আইনি এখতিয়ার বহির্ভূত। সরকারি চাকরির বিধিমালা এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের তদন্ত প্রতিবেদনের জবাব দেওয়া একজন দায়িত্বরত কর্মকর্তার আইনি বাধ্যবাধকতা, যা কোনো নাগরিক বা সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত আয়কর নথি বা নিয়োগপত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি তদন্ত রিপোর্ট, দুদকের নথিপত্র এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের অকাট্য আলামতের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ পরিবেশন করা গণমাধ্যমের আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার। ব্যক্তির ওপর দায় না চাপিয়ে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়মের দাপ্তরিক ব্যাখ্যা দেওয়াই সরকারি বিধিমালার মূল শর্ত।

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রে চেপে বসা দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, জালিয়াতি এবং স্বজনপ্রীতির কারণে স্থানীয় শিল্পী, কলাকুশলী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সরকারের নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের প্রতিনিধি ও স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কেন্দ্রটি পরিদর্শনে গিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও দূরভিসন্ধিমূলক আচরণের মুখোমুখি হন। সাধারণ ও পেশাদার শিল্পীদের অভিযোগ, অর্থ লেনদেন ছাড়া বর্তমানে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে কাজের কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃত শিল্পীদের বঞ্চিত করে ভুয়া নামের তালিকা তৈরি, স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা পকেস্থ করছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নষ্ট করে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার বানানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই মারাত্মক জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার ও লাগামহীন অনিয়ম রুখতে অভিযুক্তদের অনতিবিলম্বে মূল পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানসহ ফৌজদারি আইনে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিল্পী, কলাকুশলী ও সচেতন মহল।

সম্পর্কিত খবর

উত্তমকুমার বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য এক অধ্যায়

চট্টগ্রাম : উত্তমকুমার বাংলা সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দশকের পর দশক, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁর অটল অবস্থান সমস্ত বাঙালির অন্তর জুড়ে। মৃত্যুর প্রায়...

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় সার উৎপাদনে যাচ্ছে সিইউএফএল

চট্টগ্রাম : চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ইউরিয়া সারের প্রধানতম কাঁচামাল অ্যামোনিয়া গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় সার উৎপাদনে যাচ্ছে এবং মেকানিক্যাল ত্রুটি সারিয়ে...

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ

ছবি : সংগৃহীত   ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ও আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে...

সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সময় : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময় হওয়ায় এসময়ে মশক নিধন ও জনসচেতনতা...

দল-মত, বর্ণ ও গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের মানুষের জন্য নিরপেক্ষভাবে কাজ করার শপথ নিয়েছি : রাষ্ট্রপতি জনাব ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ছবি : সংগৃহীত   গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরানসহ (রহ.) অসংখ্য ওলি-আউলিয়ার স্মৃতিধন্য সিলেটে...

আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে জ্বালানি সংকট হবে না : বিপিসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, বৈশ্বিক নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প সব উপায় কাজে লাগানোর...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত