বাংলাদেশের বন্দরনগরী বীর প্রসবিনী চট্টগ্রাম হচ্ছে বারো আউলিয়ার পূন্যভূমি। এই বিভাগে রয়েছে অসংখ্য পীর দরবেশ আউলিয়ার মাজার শরীফ। চট্টগ্রাম শহরেও রয়েছে অনেক প্রখ্যাত পীর দরবেশের মাজার। এই মাজার গুলোতে হিন্দু – মুসলিম – ধর্ম – বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজন যাতায়াত করে এবাদত করার উদ্দেশ্যে। অনেকেই বিশ্বাস করেন মাজার শরীফগুলোতে আউলিয়ার কাছে খাস দিলে কোনো মনস্কামনা করলে সেই মনস্কামনা পূর্ণ হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রঃ) মাজার, হযরত শাহ আমানত (র:) মাজার, হযরত বদর শহ (রঃ) মাজার, হযরত মিসকিন শাহ (রঃ) মাজার, হযরত শেখ ফরিদ উদ্দিন (রঃ) মাজার, মাইজভান্ডারী দরবার শরীফ, হযরত মহসিন আউলিয়া (রঃ) মাজার, মোমিন রোডস্থ চেরাগী পাহাড় মাজার ও আরও অনেক।
গতবছর স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য মাজার শরীফ আক্রান্ত হচ্ছে। বিগত শুক্রবার ২৭ ডিসেম্বর ঠাকুরগাওয়ে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম শহর ও এর আশেপাশের মাজারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় জনগণ ও মাজার কতৃপক্ষ চিন্তিত। কারণ চট্টগ্রাম শহরের মাজারগুলোতে নেই কোন দৃশ্যমান নিরাপত্তা। দেশের অনান্য স্থানের তুলনায় এখানে তেমন কোন উত্তেজনার ঘটনা না ঘটলেও মাজার তত্বাবধানের সাথে সংশ্লিষ্টরা যেকোন সময়ে পরিস্থিতির অবনতি হয়ে হামলার আশংকা করছেন। তারা প্রশাসনের কাছ হতে যতটুকু সম্ভব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনের আশা করছেন। এই শহরের মাজার, দরবার শরীফগুলি সারাবিশ্বে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে গুরত্ব বহন করে। এই স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা উচিত বলে সচেতন নাগরিকরা মতামত ব্যক্ত করেন।
