রবিবার, মার্চ ২২, ২০২৬

ছোটো গল্প

আবদু রশীদ ফিরে এলো

আহমদ জসিম

সমীর আলী, জমির আলী তারা দু’জন ভাই, আপন মায়ের পেটের পিটাপিটে দুই ভাই। অথচ চলাফেরা একেবারে বন্ধুর মতো, তাই গ্রামের মানুষ তাদের নিয়ে গান বেঁধেছে:‘ সমীর আলী, জমির আলী তারা দুগা ভাই/ এক্ক রাইতে মরি গেছে হঁচা কাড়ল খাই। এই বিচ্ছিন এই গ্রামে ভরসার একটা বড় জায়গা হচ্ছে এই দুই ভাই! গ্রামের মুরব্বিরা সারা দিনের কর্মব্যস্ততা শেষ সন্ধ্যায় যখন টিভি দেখার ফাঁকে ফাঁকে চা খায় আর আড্ডা দেয়, তখন সেই আড্ডার মধ্যমণি হয়ে উঠে ৬৩ আর ৬৫ বছর বয়স্ক এই দুই ভাই। কিন্তু আজকের আড্ডাটা রোজকার মতো হলো না। বরং কথা শুনে কোলাহলপূর্ণ হোটেলটা যেন মুহূর্তের মধ্যে স্তম্ভিত হয়ে গেল। মানুষ হতবিহ্বল ভাবে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিল ওই দুই ভাইয়ের দিকে। যেন নিজের কানকেও কেউ বিশ্বাস করতে পারছিল না। কথাটা প্রথমে বড় ভাই সমীর আলীর মুখ থেকেই বের হয়, হোটেলে সবাই যখন রংতামাশাতে মশগুল, তখন সমীর আলী তার মুখের চা শেষ করে হোটেলের মধ্যে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলে উঠল:‘ তোমরা হগলে হুন, আবদুরশীদ আবার ফিরা আইতাছে।’ যারা সমীর আলীর ডাকে মনোযোগী শ্রোতা হয়ে ছিল, তার নতুন কোন বিনোদনের কথা শোনার জন্যই হয়েছিল, কিন্তু এই কথা তাদের কোন বিনোদন তৈরি করে নি, বরং জন্ম দিয়েছে, চরম বিস্ময়ের। তারপরেও নিশ্চিত হবার জন্য, ক্যাশ বাক্সের সামনে বসে থাকা হোটেল মালিক ইসলাম মিয়া চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল:‘ কোন রশীদের কথা কও মিয়া?’ সমীর আলী এবার আমতা আমতা করে বলল:‘ ক্যান, ভুইল্যা গেলা? যে রশীদরে আমরা হগলে মিইল্যা, লাথি উস্টা দিয়া গ্রাম থেইক্যা বাইর করছিলাম। উত্তর শুনে ইসলাম মিয়া কিছুক্ষণ সমীর আলীর মুখের দিকে হতবিহ্বল ভাবে তাকিয়ে ছিল, যেন পরবর্তী প্রশ্ন কী হতে পারে, হাতরে বেড়াচ্ছে। অনেকক্ষণ নীরবতার পর, ইসলাম মিয়ার জিজ্ঞাসা হলো:‘ তুমি কেমনে জান?’ সমীর আলী কোন রকম বিলম্ব না করে মুহূর্তের মধ্যে জবাব দিল:‘ সেই এক বিরাট কাহিনি!’ এবার কাহিনি শোনার লোভে কৌতূহলী সব মানুষের দৃষ্টি গিয়ে নিক্ষেপ হলো সমীর আলীর মুখের ওপর। সমীর আলী কানে গুঁজে রাখা বিড়িটা হাতে নেয়, তারপর বিড়িটা জ্বালিয়ে একটা জোড়ে টান দেয়, টেনে নেয়া ধোঁয়াগুলো নাক-মুখ দিয়ে বের করে, বলতে শুরু করে:‘ আমাগো শারমিনের জামাই ফিজিতে ভর্তি আছে জান তো?’ একজন চিৎকার করে বলে উঠে:‘হ, হ, জানি জানি।’ সমীর আলী আবারও বলতে শুরু করল:‘ হেরে দেখতে ঢাকায় গেছিলাম, সমীর আলী অতটুকু শেষ করার সাথে সাথে আরেকজন বিরক্ত কণ্ঠে বলে উঠে: ‘কাকির কাছে হুনছিলাম।’ সমীর আলী বলে, ‘হাসপাতাল থেইক্যা বাহির হইয়া আর গাড়ি পায় না, বাসে ভিড় ওঠনের ক্ষমতা নাই,’ সমীর আলী অতটুকু বলতেই ইসলাম মিয়া রীতিমতো ক্ষেপে গিয়ে গর্জন করে বলে উঠে:‘ আরে মিয়া কী বালের আলাপ শুরু করছ, আসল কথা কও।’ সমীর আলী এবার কোন কথার কর্ণপাত না করে বলতে থাকে:‘ কোন উপায় না দেখা হাঁটা শুরু করলাম, হাঁটতে হাঁটতে শাহাবাগের মোড়ে আসলাম, তহনেই দেখি একটা দামি গাড়ি, আইস্যা আমার সামনে খাড়াইলো, এক সাহেব গাড়ি থেইক্যা নাইম্যা আমারে জিজ্ঞায়:‘ আপনে সমীর কাকা না?’ আমি হা করি মানুষটার মুখের দিকে তাকাই আছি দেইখ্যা, কইলো:‘ ‘ আরে আমি আপনাগো গ্রামের রশীদ,’ তারপরেও আমি কোন জবাব না দিয়া হা করি তাকাই আছি দেইখ্যা জোড় গলায় কইল:‘ আমি হামদু মিয়ার ফোলা, রইশ্যা ছোরা!’ তারপর অনেক কথার পর আসল কথা কইলো, হে গ্রামে ফিরা আইবো!’

(২)
গ্রামে যে তরুণের বয়স এখন ৩০ এর কোটায়, তারও খুব মনে থাকার কথা এই আবদু রশীদ প্রকাশ রইশ্য চোরার কথা, কারণ ঘটনাটা ঘটেছে গুণাগুণে বিশ বছর আগে। হঠাৎ করে গ্রামে ভয়ানক ডাকাতের উপদ্রব হলো, মুখোশ পড়া এই ডাকাতের দল, শুধু যে গ্রামবাসীকে সর্বস্বান্ত করল তা নয়, কোন কোন বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে তারা বউ-ঝিদের শরীরেও হাত দিল। ডাকাতির কথা প্রকাশ হলেও মানসম্মানের ভয়ে নিজ নিজ পরিবার গোপন রাখল নারীদের শরীরে হাত দেওয়ারন কথা। কিন্তু ভেতরে ভেতরে এই ডাকাতের বিরুদ্ধে, গ্রামবাসীর মনে রাগ, ক্ষোভ জমছিল তীব্র ভাবে। গ্রামবাসী সংঘবব্ধ হলো, যে কোন উপায়ে পাকড়াও করবে এই ডাকাতের দলকে, গ্রামের সব পুরুষ মিলে শুরু করল, গ্রাম পাহারা ও ডাকাত ধরার আয়োজন। কিন্তু ডাকাতের দল যে আরেক কাঠি সরেস! গ্রামের পুরুষ যখন রাস্তায় পাহারাতে থাকে, তখন কোন ফাঁকে তারা ঘরে ঢুকে পরে, আর পুরুষ যখন ঘরে থাকে, তখন মাঠের ধান, গোয়ালের গরু সবকিছুই যেন মুহূর্তে সাবাড় হয়ে যায়! এভাবেই গ্রামবাসী এবং ডাকাত যেন চলতে থাকে লুকোচুরি খেলা। সমীর আলীর ছোট ভাই জমির আলীর প্রথম সন্দেহ করে, এই ডাকাতের সাথে গ্রামের কেউ যুক্ত থাকতে পারে! নয় তো, গ্রামবাসীর পাহারার খবরটা ডাকাত দল আগে থেকে জানে কী করে? তবে চতুর জমির আলী ব্যাপারটা সবাইকে না বলে শুধু নিজের বড় ভাই সমীর আলীকে বলে, এবার দুই ভাই মিলে চুপিসারে শুরু করে গ্রামের সন্দেহভাজন লোকদের গতিবিধির ওপর নজরদারি, হামদু মিয়ার মাদকাসক্ত ছেলে রশীদের ওপর প্রথমেই তাদের সন্দেহটা পড়েছিল, তবে কোন প্রমাণ ছিল না। তারা শুধু সেই প্রমাণের অপেক্ষাই ছিল, দুই ভাই গ্রামের লোকজন তো দূরের কথা, নিজের পরিবারের কাউকে না জানিয়ে চুপিসারে নজরদারি করতে শুরু করল হামদু মিয়ার বাড়ির ওপরে। ফল পেতে বেশি সময় লাগেনি, এক নিশুতি রাতে ঘর থেকে বের হতেই রশীদ দুই ভাইয়ের চোখে পড়ে যায়, তাদের গগনবিদারি চিৎকারে জেগে উঠে, সমস্ত গ্রামবাসী। সবাই মিলে চেপে ধরার সাথে সাথেই রশীদ হড়হড় করে সব বের করে দেয়, রশীদের সঙ্গী বাকি তিনজন পাশের নন্দী গ্রামের তিন যুবক, তারা চারজন দক্ষিণ পাড়ার কবরস্থানে মিলিত হয়, তারপর ওখান থেকেই দলবেঁধে ডাকাতি করতে নামে! রশীদের মুখ থেকে দক্ষিণ পাড়ার কবরস্থানের কথা শুনে গ্রামবাসীদের একটা অংশ ছুটে গিয়েছিল বাকি তিনজনকে ধরে আনতে। কিন্তু গ্রামবাসীর চিৎকার শুনে তারা আগেই ওখান থেকে সটকে পড়েছিল। এখন গ্রামবাসীর হাতে রইল শুধু রশীদ।উত্তেজিত গ্রামবাসী সবকিছু এখানেই খতম করতে চায়, কারো ইচ্ছা দুই হাত কেটে দেওয়া, কারো ইচ্ছা গণপিটুনি দিয়ে শেষ করে দেওয়া! কারণ গণপিটুনির কোন বিচার নাই। কিন্তু সমীর আলী আর জমির আলী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যা হবার হবে দিনের আলোতে, গ্রামের বাজারে। শেষ পর্যন্ত দুই ভাইয়ের কথা মতই কাজ হয়। দিনের ফকফকে আলোতে, গ্রামের সমস্ত মানুষের উপস্থিতিতে বাজারে সালিশ বসে, গ্রামের কেউ কেউ দাবি তোলে, হাত-পা ভেঙে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠের আপত্তির কাছে সেই দাবি ধোপে ঠেকে না। তারা বলে পুলিশ টাকা খেয়ে ছেড়ে দেবে, নয় তো মামলা হলে দু’মাস পরেই জামিনে বেরিয়ে আসবে!এই সংখ্যাগরিষ্ঠের দাবি, এই ভাইরাসকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলতে হবে, গণ পিটুনির কোন বিচার নাই! কিন্তু এই মানুষগুলোর মনোবাসনাও পূর্ণ হয় না, দুই ভাই সমীর আলী জমির আলীর প্রবল আপত্তির কারণে।শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসী এক মত হয়, অপরাধীকে যেহেতু এই দুই ভাই মিলে শনাক্ত করেছে, তাই বিচারের চুড়ান্ত রায় এই দুই ভাইয়ে দেবে! গ্রামবাসীর সম্মতি পেয়ে দুই ভাই কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে সলাপরামর্শ করল, তারপর সমীর আলী গ্রামবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুরু করল:‘ এই পাপীরে মারি, আমরা নিজেরা পাপের ভাগীদার হওনের কাম নাই, আবার পুলিশরে দিলে, দুইদিন পর জেল থেইক্যা বাহির হইয়্যা আমাগো চোখের সামনে ঘুরঘুর করব,তহন আমাগো আর কিছু করনের থাকব না, তাই আমি কই, তারে গ্রাম থেইক্যা বাহির কইর‌্যা দিম, মুচলেকা নিমু জাতে গ্রামে আর কোনদিন ঢুকতে না পারে!’ সমীর আলীর কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে একজন চিৎকার করে বলে ওঠে:‘ যদি গ্রামে ঢোকে তহন কী করবা?’ এতক্ষণ মোলায়েম কণ্ঠে কথা বলতে থাকা সমীর আলী হঠাৎ চোয়াল শক্ত করে বলে ওঠে:‘ যেহানে দেখুন ওইহানে মারি মাটিতে পুতী ফেলামু, তারপর দরকার হইলে আমরা গ্রামের হগলে মিল্যা মামলার আসামি হমু! কী মিয়ারা হইবা না?’ সমীর আলীর প্রশ্ন শুনে উপস্থিতি সকল গ্রামবাসী সম্মিলিত ভাবে বিকট শব্দ করে বলে ওঠ:‘ হ, হমু হমু!’ সেই দিনের পর থেকে অবশ্যই আবদুরশীদকে, গ্রাম তো দূরের কথা, পুরো ইউনিয়ন, উপজেলা কিংবা জেলা শহরে দেখেছে বলে কেউ বলতে পারবে না!
(৩)
রশীদ গ্রামে ঢুকল একটা সাদা রঙের এক্স করলা গাড়িতে করে। আগে থেকেই তাকে এক নজর দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড় করে আছে,রশীদ গাড়ি থেকে নামল এবং গ্রামের মানুষ অবাক বিস্ময় দেখল, ২৫/২৬ বছরের রোগা-পাতলা তরুণকে তারা গ্রাম থেকে বিতাড়িত করেছিল, সেই তরুণ এখন দামি কোট-টাই পড়া এক মধ্যবয়স্ক যুবক। চেহারায় কেমন চকচক করছে। আরো বিস্মিত হলো, রশীদ যখন গাড়ি থেকে নেমে, বাজারের উঁচু ডিবিটার উপর দাঁড়িয়ে সঙ্গে আনা হ্যান্ডমাইক দিয়ে বক্তৃতা দেওয়া শুরু করল। সত্যি কথা বলতে কী, এমন শুদ্ধু বাংলা এই গ্রামের কারো মুখে আগে কেউ শুনেনি! রশীদ বলল:‘ আমি আল্লাহর ঘরে গেছিলাম, সেখানে আমি কান্নাকরে খোদার কাছে মাপ চেয়েছি, কিনত্মু আমি জানি, আপনারা ক্ষমা না করলে, আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনও আমারে ক্ষমা করবে না। তাই আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চায়তে এসেছি, এখন আপনারা যদি ক্ষমা করেন তাইলে আমি মরেও শান্তি পাব নইলে…।’ রশীদের এই কথার শোনার সাথে সাথে পুরো উপস্থিত মানুষ সমস্বরে বলে ওঠল:‘ ক্ষমা, ক্ষমা ক্ষমা।’ক্ষমার কোলাহল থামার পর রশীদ আবারও বলতে শুরু করল:‘ আল্লহ আমারে এমন দিছে যে, আমি চায়লে এই গ্রামটারে লন্ডন বানায়তে পারি, এবং আপনারা যদি আমাকে একটু সহযোগিতা করেন এটা আমি করব’, রশীদের বাক্য শেষ হওয়ার আগেই গ্রামের মানুষ সম্মিলিত কণ্ঠে বিকট শব্দ করে জানিয়ে দিল, তারা গ্রামকে লন্ডন বানাতে চায় এবং রশীদকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’ অল্পদিনের মধ্যেই গ্রামবাসী জানতে পারল, গ্রামকে লন্ডন বানাতে হলে, আসন্ন ভোটে আবদুরশীদকে চেয়ারম্যান বানাতে হবে! গ্রামের মানুষ প্রথমে কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও, পরে জমির আলীর কথায় তারা একমত হয়, জমির আলী চিৎকার করে বলে ওঠে:‘ আরে মিয়া নিজাম উদ্দীন ১০১ খুন করি আউলিয়া হইছে, আর তোমরা কউ রশীদের কথা!’চান্স একটা লইলে, লাভ না হোক ক্ষতি তো আর হইবনা।’
(৪)
নির্বাচন হলো সেই অনেক দিন, রশীদ চেয়ারম্যানও হলো, রশীদকে কেন্দ্র করে ১৫/২০ জন তরুণের একটা বাহিনী তৈরি হওয়া ছাড়া— গ্রামেটা ঠিক আগের মতই রয়ে গেল! তবে কিছুমাস মাস ধরে গ্রামে একটা নতুন সমস্যা উপদ্রব হলো। না, ডাকাতি কিংবা গরু ছোর নয়, এমন এক সমস্যা যেটা গ্রামের মানুষ আগে কখনো দেখেনি! পকেট কাটা, ইসলাম মিয়া দোকানের জন্য বাজার করতে শহরে রওনা হয়েছিল, দু-মিনিটের মধ্যেই দশ হাজার টাকা শেষ, একই অবস্থা, একই মুদি দোকানদার কাসেমেরও! রফিক হাঁট থেকে গরু বেচে পুরো রাস্তায় ঠিকঠাক মতো আসলে, অথচ বাজারে ঢোকার পরেই লাখ টাকা গায়েব হয়ে গেল! প্রথমে একটা দুইটা করে খবর আসছিল, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ব্যাপারটা রীতিমতো মহামারি মতো করে ঘটতে শুরু করল। নিরুপায় গ্রামবাসী সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার আশায়, দলবদ্ধ চেয়ারম্যান আবদুরশীদের সাথে দেখা করতে চায়লো, কিন্তু তার কাছে পৌঁছানো অনেক কঠিন, তিনি কালেভদ্রে গ্রামে আসে, এবং বাহিনীর তরণদের সাথে মিটিং করেই ফিরে যায়, এই নিয়ে গ্রামে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিলে, রশীদের হয়ে, বাহিনীর তরুণরাই জবাব দেয়:‘ গ্রামবাসীর ভাগ্য ফেরাতে তিনি ঢাকায় সরকারের সাথে দেনদরবারে ব্যস্ত। নিরুপায় গ্রামবাসী মিটিং ডাকল, নানান মুনির নানান মত দিলেন, তবে এখানেও শেষপর্যন্ত সমীর আলীর মতটাই গ্রহণ হলো, সমীর আলী বলল:‘ আমরা পকেটে টাকা রাখলে, উধাও হইয়্যা যায়, লুঙ্গির খোঁচাতে রাখলে হেডাও, তয় আমরা অহনতুন টাকা রাখুম বগলের নিচে, প্রত্যেকের শার্টের বগলের কাছে একটা করি পকেট বানাও, দেহি কেমনে আমাগো হাত তুইল্যা বগলের নিচ থেইক্যা টাকা নেয়!’ সমীর আলীর প্রস্তাব শুনে প্রথমে কেউ হেসেছে, কেউ বা তাচ্ছিল্য করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাবটাই মেনে নিয়েছে। মোটামুটি এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রামের সব পুরুষের শার্টে বগলের নীচে পকেট পড়ে গেছে। ফলাফলও হাতেনাতে পাওয়া গেল, পকেটকাটা শূন্যের কোটায় নেমে এলো। আরেকবার জয় হলো, সমীর আলীর বুদ্ধির! এই জয়ের মাঝেই বহুদিন পর গ্রামে দেখা দিল আবদুরশীদের তবে তাকে ঘিরে আছে, সেই বাহিনীর তরুণরা, মনে হয় তারা খুব ক্ষুব্ধ। একটা দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর তরুণরা বেরিয়ে এসেছে, আবদু রশীদের একটা ফরমান নিয়ে, ফরমানে বলা হয়েছে, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর গ্রামের সমস্ত পুরুষ যার যা আছে, সব টাকা পয়সা নিয়ে যাতে বাজারের খোলা মাঠে উপস্থিত থাকে, সেদিন গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে আবদুরশীদ বক্তব্য দেবে, আর টাকা পয়সা কেমনে দ্বিগুণ করা যায়, সেই হিসাবটা বুঝিয়ে দেবে।বেশির ভাগ গ্রামবাসীই ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে পারল না, তাই আবারও সবাই ছুটে গেল, সেই সমীর আলীর কাছে, এবার জমির আলীর আপত্তির পরেও সমীর আলী বলল:‘ টেয়া হয়সা তো আর কাড়ি নিতে হাইতো ন, চায় বেড়া কিয়ারে?’ শেষপর্যন্ত যথাসময়ে গ্রামবাসী তাদের জমানো সব টাকা পয়সা বগলের নীচে গোপন পকেটে করে নিয়ে হাজির হলো, আবদুরশীদের সমাবেশে, আবদুরশীদ শুরু করল তার আবেগ-ঘন বক্তব্য, আবদুরশীদ বলল, এই গ্রামের উন্নয়নের জন্য সে কোথায় কোথায় গিয়েছে, এবং কী কী পরিকল্পনা করেছে। তার বক্তব্য শুনে গ্রামবাসী আবেগাপ্লুত হলো, তখনেই আবদুরশীদ বলে ওঠলো:‘ আপানারা যারা আমার কথা বিশ্বাস করেন তারা দু-হাত উপরে তোলেন।সাথে সাথেই উপস্থিতি সকলে তাদের হাত উপরে তুলল, এবং কিছুক্ষণ পর আবদুরশীদ নরম কণ্ঠে বলল, ঠিক আছে আপনারা এবার হাত নামিয়ে বাড়ি ফিরে জান, টাকা পয়সাগুলো যত্ন করে রাখেন, এগুলো কী করে দ্বিগুণ করা যায়, আমি সেই ব্যবস্থা করছি। টাকাপয়সার কথা বলতেই গ্রামবাসীর সহসা সংবেদ ফিরে আসে, তারা দ্রুত বগলের নিছে হাত দিয়ে দেখে। তখন তারা বুঝতে পারে মুহূর্তের মধ্যে সব টাকাপয়সা উধাও হয়ে গেছে! হঠাৎ এই ঘটনায় সবাই যেন হতবিহ্বল হয়ে গেছে, এই সময় সমীর আলী লক্ষ্য করল তার ছোট ভাই জমীর আলী, বাম হাত পিছনের দিকে নিয়ে, লুঙ্গির ভেতর ঢুকিয়ে পাছায় হাত বুলাচ্ছে। তখন সমীর আলী চিৎকার করে বলে ওঠে:‘ ওইয়ানে কীয়া খুঁজছ ? জলদি বগলের নীচে হাত দে।’ বড় ভাইয়ের কথা শুনে জমীর আলী ভাবলেশহীন ভাবে জবাব দেয়:‘ ভাইজান, রইস্যা আঙগোরে বাকি পুনডা মারি দিছে!’

সম্পর্কিত খবর

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা

ত্যাগ-তাকওয়া আর সংযমের শিক্ষা দিয়ে বিদায় নিয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। সেটার উল্লেখ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির...

দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ঈদের প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে নামাজ আদায়

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আজ এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো সমগ্র দেশবাসী। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান...

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বিরতি চায় না : ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ...

উৎসব মুখর পরিবেশে ঈদ হয়ে উঠুক আনন্দঘন ও নিরাপদ : ঈদ শুভেচ্ছায় জনাব আবু সুফিয়ান এমপি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সর্বস্তরের জনসাধারণসহ চট্টগ্রামবাসীকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক শুভেচ্ছা বার্তায়...

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের হাই কমিশনারের প্রথম বৈঠক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে প্রথমবার সাক্ষাৎ করেছেন ভারতে নিযুক্ত  বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতের ছবি যুক্ত করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী...

মনিরুল মনির- এর কবিতা

কুন্টককুসুমে ............................. আহত মানুষ ব্যর্থ হয়ে যায়— নিমজ্জিত রহস্যের জালে আটকা জীবিতকাল সুরক্ষিত কণ্টককুসুমে যেন সমাদরে শুভ্র চূর্ণ নদী তারপরও পুড়ে থাকে মনে হয় যার-যার বেদনায়,— উন্মত্ত মানুষ সন্ধানপর্ব ............................. ভালবাসা—খুব নিকটে এসে তোমাকে ভেঙে...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত