কুন্টককুসুমে
………………………..
আহত মানুষ ব্যর্থ হয়ে যায়—
নিমজ্জিত রহস্যের জালে আটকা
জীবিতকাল সুরক্ষিত কণ্টককুসুমে
যেন সমাদরে শুভ্র চূর্ণ নদী
তারপরও পুড়ে থাকে মনে হয়
যার-যার বেদনায়,— উন্মত্ত মানুষ
সন্ধানপর্ব
………………………..
ভালবাসা—খুব নিকটে এসে তোমাকে
ভেঙে যায়, অসময়ে।
তুমি—
চিত্রের গহনা।
মাটি খুঁড়ে
জেগে ওঠো পুনরায়, আমি
নির্নিমেষ।
কথা
………………………..
একটা কথার পৃষ্ঠা
কে একজন দিয়ে গেল
বলল, আসমান থেকে আসবে
তখন থেকে আনন্দ
বাঁচিয়ে রাখতে রাখতে অবাক
হতে হলো
জীবনের কাছে পাওয়া
বিস্তর সময় লাগা ধূম
বাতাসে মিলেছে, বিষময়
আমার দেয়াল
…………………………..
প্রতিদিন ডুবি
তোমার নিকটে হাবুডুবু খাই
দম ধরে রাখি
খুশি হয়ে
সকলে আবার ফিরে
মুগ্ধ হবার এক দেয়াল চিত্র দেখে
দেয়ালের কথা
লেখা আছে কিছু প্রথা
প্রতিদিনকার মুগ্ধ যথা।
জলের চিত্র
………………………..
গাঙচর থেকে
ফিরে আসা পাখি
মৌন-মুখর সকালে ঘরে এলো—
বন তুলসী—
মোহে বেঁচে থাকি—
নদীতে, নিঠুর ঢেউ খেলে—
জীবনের আদর মেখেছে মন
অগণিত মানুষের কাছে
ঈর্ষাপ্রবণ অঝোর ধারা
আবহপ্রস্তুত—
আহত ঠোঁটের পাশে প্রতিদিন
মলম-পালিশ দ্রুত মেখে যাই
একটি পাতায় রেখো
আগুন-ঝরা জলের চিত্র,
হাসপাতালের বারান্দায় চমকালো
এক জ্যোৎস্নারাত—
কতশত ঢেউ এসে তোমার উঠোনে
সব স্মৃতি করে দেয়।
দশের তরুপ
………………………..
কুয়াশা রোদে প্রমাদ করে
ঘড়িতে চাঁদ গড়িয়ে পড়ে
বিভূতি মুখ হাসতে থাকে
হীরক-রাজা আলোর মাঠে
জীবন ফিরে নিখিল পাঠে
সকালবেলা লোহিত জলে
শরীর সেঁচে চোখের ছলে
জাপটে ধরে ভয়ের ঘরে
দু’হাতে টান মনের ভুলে
বেহুলা-প্রাণ ঢেউয়ে খুলে
দশে দেশে দশ
………………………..
ডানার নীলে আকাশে চিল
মনের মিলে ঘুমের বিল
জলের দেশে বিজলি বেশে
মেঘের নুনে আগুন নামে
বাতাস চোখ মিছিল থামে
সকাল থেকে রাতের ভিড়ে
প্রাণের পাখি ফিরছে নীড়ে
শরীর বেয়ে শরীর নামে
বিলের চাষে মনসা গাছ
লাশের বুকে বেহুলা-নাচ
