রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের হতে হবে নিরপেক্ষ ও পেশাদার : ডিসি সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ রোববার থেকে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। বর্তমান সরকারের আমলে এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারির ওপর কঠোর দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘শুধু পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারির সঙ্গে আপস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তোবা লাভবান হতে পারেন। তবে সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং, জন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদেই কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি। সব সময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই জনপ্রশাসনকে দুর্নীতিপরায়ণ এবং অপেশাদার করে তোলার অন্যতম একটি কারণ বলে আমার মনে হয়। আমার ধারণা, আমার এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আপনারা একমত। সুতরাং, আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান, জন প্রশাসনের প্রতিটি পদকেই “গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য” ভাবুন। দেশের যে কোনো স্থানেই যে কোন সময় জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন।’

জনাব তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদেরকে মনে রাখা জরুরি, একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয় জন প্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।’ প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো পদে দেশের স্বার্থে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পেশাদারির ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি প্রমাণিত হয়েছে যে জনপ্রশাসন চাইলে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দুর্নীতি প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দিয়েছিল।’ তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট কার্যকরী দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন যেগুলো নিম্নরূপ  –

বাজার সিন্ডিকেট দমন: কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারি সহ্য করা হবে না। নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

খাল খনন ও কৃষি বিপ্লব: প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচিতে জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা। এটি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: সুশাসন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা।

ডিজিটাল ও স্মার্ট প্রশাসন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবাকে আরও দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করা।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের সঠিক বণ্টন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন।

মোবাইল কোর্টের কার্যকারিতা: খাদ্যে ভেজাল, বাল্যবিবাহ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টকে আরও নিয়মিত ও দৃশ্যমান করা।

মাদক ও আইন-শৃঙ্খলা: মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ: সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ যেন কোনো অনিয়মের শিকার না হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা।

স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ জনগণের শহরমুখিতা হ্রাস করতে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা।

জাতীয় ঐক্য ও সেবা: রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দল-মত নির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবির জানান, এবারের সম্মেলনে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত থাকছেন। চার দিনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ৩০টিই হলো সরাসরি কার্য অধিবেশন। মাঠ প্রশাসন থেকে এবার মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বাছাইকৃত ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সম্পর্কিত। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। আগামী ৬ মে পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন।

সম্পর্কিত খবর

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ

ছবি : সংগৃহীত   ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ও আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে...

মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক রইসুল হক বাহারের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল

মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক রইসুল হক বাহারের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। একাত্তরের এই গেরিলা যোদ্ধা ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। কৈবল্যধাম...

শহীদ ২ সেনাসদস্যের পরিবারের হাতে সহায়তার চেক হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণের দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যরা।...

চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে উন্নয়ন কাজে গতি আনতে রাতে সরেজমিনে চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে যাওয়ায় এ পথে চলাচলকারী নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরছে। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি...

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ‘পিএমও বাংলাদেশ’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক...

মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত চট্টগ্রাম জেলা নাজির আরিফ হোসেন

চট্টগ্রাম : মাদার তেরেসা পিস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পদকে ভূষিত হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (জেলা নাজির) আরিফ হোসেন। মাদার তেরেসার ১১৬তম জন্মবার্ষিকী...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত