চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে বেলুন উড়িয়ে ও ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হলো বন্দরের নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) ভবন। যেখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকা আয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। বুধবার ( ১ জুলাই ) সকাল পৌনে ১২টার দিকে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন্দরের সদস্য, পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, আগে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারটি বন্দরের অভ্যন্তরে থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে হতো। এতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বন্দর পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতো। নতুন ভবন চালুর ফলে বন্দরের বাইরে থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।
নতুন এই ভবনের মাধ্যমে বন্দরের বিভিন্ন সেবা এক ছাদের নিচে পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বন্দরের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ ভবন থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। সে হিসেবে এক বছরের মধ্যেই নির্মাণ ব্যয় উঠে আসবে।
রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান জানান, ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা বিধিমালা (আইএসপিএস কোড) অনুসরণ করে গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বন্দর কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসময় অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২২ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ভবনের নিচতলায় রিসেপশন এবং প্রথম তলায় টোকেন বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া তিনটি তলায় বন্দরের বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করা হবে। সেবাগ্রহীতাদের সুবিধার্থে প্রতিটি তলায় ব্যাংকের বুথও স্থাপন করা হয়েছে।
ভবনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনটি তলা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রশাসনিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস ভবন চালুর ফলে বন্দরের বিভিন্ন সেবা আরও দ্রুত, সমন্বিত ও গ্রাহকবান্ধব হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় জনসমাগম কমে গিয়ে বন্দরের নিরাপত্তা, পরিচালন দক্ষতা এবং সেবার মান আরও উন্নত হবে।
