সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২৬

জনাব তারেক রহমানের বক্তব্য জুড়ে ছিলো নারীর সম্মান, স্বাধীনতা আর রাজনীতিতে নারীর ভূমিকা।

নতুন এক ‘জালেম’ শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে : জনাব তারেক রহমান

জনাব তারেক রহমান বলেন, যেই নেতা বা দলের নিজের দেশের মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই, তাদের কাছ থেকে জাতি কখনো মর্যাদাশীল আচরণ বা অগ্রগতি আশা করতে পারে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৬ বছরের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং নতুন এক ‘জালেম’ শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।

বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। মঞ্চের সামনে বসা শহীদ পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মানুষগুলো তাদের স্বজন হারিয়েছে কেন? তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারবে এবং নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে। বিগত ১৫ বছরের নিশিরাতের ভোট ও আর-ডামি নির্বাচনের সংস্কৃতি চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সমূলে বিনাশ হয়েছে।’

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে গুপ্ত সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সম্প্রতি নারীদের নিয়ে সেই দলের নেতার আপত্তিকর মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেই নেতা বা দলের নিজের দেশের মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই, তাদের কাছ থেকে জাতি কখনো মর্যাদাশীল আচরণ বা অগ্রগতি আশা করতে পারে না।’

জনাব তারেক রহমানের অভিযোগ, যে দলটি সকাল-বিকাল জনগণের সামনে মিথ্যা কথা বলছে, নারীদের হেয় করছে, তারাই এখন নানাভাবে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। কারণ মানুষ তাদের কথাবার্তা আর কাজকর্মের ফাঁকফোকর ধরে ফেলেছে। সে কারণেই দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপির চেয়ারপার্সন।

বক্তৃতার একপর্যায়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের লাখ লাখ নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী আজ দ্রব্যমূল্যের চাপে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ সেই নারীরাই আজ অসম্মানিত হচ্ছেন।’ এই দ্বিচারিতাই তাঁর মতে সবচেয়ে বিপজ্জনক।

তিনি ইসলামের ইতিহাস থেকে উদাহরণ টেনে বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) নিজেও একজন সফল ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী নারী ছিলেন। বদরের যুদ্ধেও নারীদের বীরত্বগাথা ও সেবামূলক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নারীদের ঘরে বন্দি রেখে বা পেছনে ফেলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কখনো সম্ভব হবে না।জনাব তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারী শিক্ষার প্রসারে গৃহীত পদক্ষেপগুলো স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপিই প্রথম বাংলাদেশে নারীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিল। আগামী দিনেও বিএনপি ক্ষমতায় আসলে নারীদের কর্মসংস্থান ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক প্রসঙ্গে জনাব তারেক রহমান বলেন, ‘নারীদের মন্তব্য নিয়ে যখন সমাজজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলো, তখন সংশ্লিষ্টরা দাবি করলেন, তাদের আইডি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট বলেছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কথা নয়।’ তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘এদের একটাই পরিচয়, এরা মিথ্যাবাদী। নিজেদের স্বার্থে মিথ্যা বলতে তারা দ্বিধা করে না, আর দেশদরদি হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে আরো সরাসরি আক্রমণ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তাঁর অভিযোগ, ‘দলটি ধর্মকে ব্যবহার করে কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ধর্মের ব্যাখ্যাও নিজেদের মতো করে নেয় তারা।’ তিনি বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি, যার অন্তত অর্ধেক নারী। এই বিশাল নারী সমাজকে পেছনে রেখে কোনো বড় পরিকল্পনাই সফল হতে পারে না।’ বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তারেক রহমান। সেই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলাই লক্ষ্য, যাতে নারী সমাজ কারো মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে সমগ্র দেশের ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন এই বাংলাদেশ জনগণের বাংলাদেশ। আগামী ১২ তারিখ আপনাদের পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচন করুন, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।

সকাল থেকেই বরিশালের আনাচে কানাচে থেকে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনসমূহের নেতা কর্মীরা বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। একইসাথে অসংখ্য সাধারণ জনগণ বিএনপির চেয়ারপার্সনকে একনজর দেখার জন্য এবং তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়ে জনাব তারেক রহমানের আজকের সমাবেশটিকে লোকে লোকারণ্য করে জনসমুদ্রে পরিণত করেন। উপস্থিত জনতা স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে জনাব তারেক রহমানের প্রতি নিজেদের সমর্থন প্রকাশ করেন। উপস্থিত সকলে জনাব তারেক রহমান আগামীর প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের ভাগ্য ভালোর দিকে ধাবিত হবে বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্পর্কিত খবর

রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে সংসদ থেকে জামায়াত ও এনসিপির ওয়াকআউট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়ার প্রতিবাদে সংসদ বর্জন ও ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ...

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান

সংবিধানে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বহুল আলোচিত এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে,...

ইসরায়েলে ব্যাপক রকেট ও ক্ষেপনাস্ত্র হামলা

ইসরায়েলে বৃষ্টির মতো রকেট-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান এবং ইরান সমর্থিত লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও টাইমস অব ইসরায়েলের এক...

৫টি সংসদীয় কমিটি গঠিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে কার্য উপদেষ্টা কমিটিসহ পাঁচটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ সংসদের...

রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য আমেরিকার কাছে বিশেষ অনুমতি বা অস্থায়ী ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের মতোই বাংলাদেশকেও একই ধরনের...

পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন

পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।আজ রোববার ১৫ মার্চ বিকালে ফেসবুকে নিজের...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত