সোমবার, জুন ১, ২০২৬

ক্যামেরার জাদুকরের মহাপ্রস্থান-রঘু রাই আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

জীবন্ত কিংবদন্তি আলোকচিত্রী শিল্পী ও আলোকচিত্র সাংবাদিক জগৎ বিখ্যাত রঘু রাই আর নেই। জন্ম সালটা (জন্ম: ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৪২)

চিত্রসাংবাদিকতার দুনিয়ায় অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ব্যাপী বর্ণাঢ্য এক কর্মজীবন রেখে গিয়েছেন রঘু। ২৩ বছর বয়স থেকে তিনি ছবি তোলা শুরু করেন।

আজ (২৬ এপ্রিল, ২০২৬), সকালেই জানা গেল,থামল ক্যামেরার শাটার। ৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বিশ্বখ্যাত চিত্রসাংবাদিক রঘু রাই। আজ, রবিবার ভোরে এই সংবাদ জানিয়েছে তাঁর পরিবার। রঘু রাই দুই বছর ধরে প্রোস্টেট ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন বলে জানান তাঁর ছেলে আলোকচিত্রী নীতিন রাই।

ছবির জাদুকর রঘু রাইয়ের মহাপ্রয়াণে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। আপনার সৃষ্টি চিরকাল বেঁচে থাকবে। দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময়জুড়ে তাঁর ক্যামেরা শুধু ছবি তুলেনি, বরং সময়, ইতিহাস ও মানুষের যন্ত্রণাকে নথিবদ্ধ করেছে।

১৯৪২ সালে অবিভক্ত ভারতের ঝাং (বর্তমান পাকিস্তানের অন্তর্গত) অঞ্চলে জন্ম নেওয়া রঘু রাই শুরুতে ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তবে পেশাগত সেই পথ ছেড়ে তিনি ক্যামেরাকেই বেছে নেন জীবনের মূল ধারা হিসেবে। মাত্র ২৩ বছর বয়সে বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় তার ফটোগ্রাফির যাত্রা শুরু হয়, যা পরবর্তীকালে তাকে বিশ্বখ্যাত ফটোসাংবাদিকে পরিণত করে।

১৯৬৫ সালে তিনি পেশাদার ফটোগ্রাফি শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় প্রধান আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীকআলে তিনি খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক ফটো এজেন্সি ‘ম্যাগনাম ফটোস’-এর সঙ্গে যুক্ত হন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় রঘু রাই শরণার্থী শিবির, সীমান্ত এলাকা এবং যুদ্ধের মানবিক বাস্তবতা ক্যামেরায় ধারণ করেন। তার তোলা শরণার্থীদের দুর্দশা, অনাহার, ক্লান্তি ও সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয়ের জন্য ছুটে চলা মানুষের ছবি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ ভিজ্যুয়াল দলিল হয়ে ওঠে।

তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে তিনি ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পদ্মশ্রী পুরস্কার লাভ করেন। এরপরও তিনি বিশ্বব্যাপী নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলোকচিত্র ধারণ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।

রঘু রাইয়ের ক্যামেরায় উঠে এসেছে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম। ইন্দিরা গান্ধী, দালাই লামা, মাদার তেরেসা থেকে শুরু করে ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস—সবই তার ফ্রেমে ধরা পড়েছে। রঘু রাই দীর্ঘ কর্মজীবনে ১৮টির বেশি বই প্রকাশ করেন। তাঁর কাজ টাইম, লাইফ, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, নিউজউইক, দ্য নিউ ইয়র্কার-এর মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

চকরিয়ায় কিশোরীকে উদ্ধার করতে গিয়ে মারধরে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার

কক্সবাজার : কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহরণের শিকার এক কিশোরীকে উদ্ধার করতে গিয়ে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও মারধরের অভিযোগ ওঠায় মো. আরকানুল ইসলাম নামের পুলিশের এক...

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের শুভেচ্ছা জানালেন এমপি সাঈদ আল নোমান

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সকল গণমাধ্যমকর্মী, সম্পাদক, সাংবাদিক এবং সংবাদপত্র শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সংসদ সদস্য সাঈদ...

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান : বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ স্থপতি

বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসে যেসব রাষ্ট্রনায়ক দেশের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। একজন...

ত্যাগ, সাম্য ও মানবিকতার মহিমায় আজ দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদ উল আযহা

আজ মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ উল আযহা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ত্যাগের অনন্য শিক্ষা ধারণ করে বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা গভীর...

পাকিস্তান চীনের বিশ্বস্ত বন্ধু : শি জিনপিং

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে দুদেশের ‘অটুট’ বন্ধুত্বের প্রশংসা করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পাকিস্তানকে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ উল্লেখ করে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার...

তিস্তা মহাপরিকল্পনা : উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে তিস্তা নদী। একসময় প্রমত্তা এই নদী আজ শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায়...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত