আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান দায়িত্ব নেবেন বলে মনে করছেন ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। অপরদিকে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড-৩’ শীর্ষক একটি জরিপের ফলাফলে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জরিপের প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার।
তিনি জানান, রাউন্ড-৩ জরিপে মূলত ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ভোট প্রদানের ইচ্ছা এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জনমত তুলে ধরা হয়েছে। এই রাউন্ডটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে আগের রাউন্ডে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মতামতের পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। কারণ নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে জনমত পরিবর্তিত হতে পারে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আগের রাউন্ডে যারা ভোট দেবেন বলেছিলেন, তাদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ আবারও ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। যারা আগে ভোট দেবেন না বলেছিলেন, তাদের ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবার ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আর যারা আগে মতামত প্রকাশ করেননি, তাদের ৮৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবার ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। জেন জি প্রজন্মের মধ্যে ভোটদানের আগ্রহ তুলনামূলক কম হলেও সামগ্রিকভাবে হার এখনো বেশি।
যেহেতু নির্বাচনের আর মাত্র ২ সপ্তাহ বাকি রয়েছে সূতরাং এই জরিপের ফলকে মোটামুটিভাবে বাস্তবতার কাছাকাছি ধরে নেওয়া যায়। জরিপের ফল অনুসারে এবারের নির্বাচনে বিগত দেড় দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমানই হবেন আগামী সরকারের প্রধানমন্ত্রী। আর যেহেতু প্রায় ৪৭ শতাংশ ভোটার মনে করছেন তারেক রহমানই আগামীর প্রধানমন্ত্রী, সূতরাং ধরে নেওয়া যায় বিএনপি আগামী নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করবে। তবে আগাম নির্বাচনের জরিপের ফলাফল সবসময় বাস্তব ফলের সাথে নাও মিলতে পারে। কারণ পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে ভোটারদের মনোভাব যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
