পাকিস্তানের করাচির রাস্তায় আজ ভোর থেকে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের হত্যার প্রতিবাদে শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলা চালাতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন, এবং এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানি পুলিশ এবং মার্কিন নিরাপত্তা কর্মীরা যৌথভাবে গুলি চালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গেছে।
এই ঘটনা পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচিতে ভয়াবহ উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।গতকাল রাতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনেই শহীদ হয়েছেন খবর প্রচারিত হওয়ার পর পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের সঙ্গে ব্যাপক ক্রোধের সৃষ্টি হয়েছে। আজ রবিবার ভোররাতে করাচির ডিপ্লোম্যাটিক জোনের কাছে শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তারা খামেনেইয়ের ছবি, কালো পতাকা হাতে নিয়ে “ডেথ টু আমেরিকা”, “ডেথ টু ইসরায়েল” স্লোগান দিতে দিতে কনস্যুলেটের দিকে এগিয়ে যান। অনেকে বাইরের দেয়াল ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, জানালা ভাঙেন, গাড়ি জ্বালিয়ে দেন।পাকিস্তানি পুলিশ প্রথমে টিয়ার গ্যাস ছুড়ে, লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। কিন্তু ভিড় থামেনি। যখন কয়েকজন কনস্যুলেটের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, তখন মার্কিন নিরাপত্তা কর্মী এবং পাকিস্তানি পুলিশ যৌথভাবে গুলি চালায়।
এই ঘটনায় পাকিস্তান সরকার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, কিন্তু পুলিশ বলছে, কনস্যুলেট রক্ষা করতে বাধ্য হয়ে গুলি চালানো হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এলাকায় ভারী নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে জ্বলন্ত গাড়ি, ধোঁয়া, চিৎকার, রক্তাক্ত মানুষ।
